|

“অনুসরণ করা ভালো অনুকরন নয়”কাজী নওরিনের সাথে এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ

সংগীতের সঙ্গেই ওঠাবসা খুব ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রতি আগ্রহ। শুধু সংগীতই না মিউজিক কম্পোজারের প্রতি আগ্রহ থেকেই আজ বাংলাদেশের নারী মিউজিক কম্পোজারদের মধ্যে একজন কাজী নওরিন।

এবারে আমাদের আনন্দ ভূবন ম্যাগাজিনের এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউর মুখোমুখি হয়েছেন তিনি জানালেন তার অনেক কথা, কথার ফাঁকে উঠে এসেছে সংগীত সম্পর্কিত মজার তথ্য

(ইন্টারভিউটি নিয়েছেন সাজিয়া ইসলাম মিম)

কেমন আছেন ?

তিনি বললেনঃ আপু আলহামদুলিল্লাহ ভালো

বর্তমানে ব্যস্ততা কি নিয়ে ?

উত্তরে তিনি বলেনঃ বিজিবি’র সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দুল আজিজ এর সহধর্মীনি কন্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কাকলির  নতুন গান ‘রানওয়ের মাটি ছুঁয়ে’ সেটি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আরও একটি গান বের হচ্ছে যেটি দেশাত্মবোধক গান। পাশাপাশি সোমা ফারাহ আপুর একটা গানের কাজ করলাম। এবং এম ডি মতিউর রহমান এর সাথে কাজ করছি। পাশাপাশি নিজের কিছু কাজ আছে এগুলো করছি।

কিভাবে এই সংগীতের জগতে আসলেন একটু ডিটেইলসে বলুন।

তিনি বলেনঃ আমার বাবা কাওয়ালী শিল্পী কাজী মাশুক খাদেম উনিই আমার হাতেখড়ি।ছোটকাল থেকেই আমি বাবার সাথে গান করতে ভালোবাসতাম। আমার বড় বোনও গান করে, ওর গানের পাশাপাশি দেখা গেছে বিভিন্য ধরনের ইনস্ট্রুমেন্ট এর প্রতি আমার আগ্রহ দেখে আমার বাবা আমাকে শিশু একাডেমিতে ভর্তি করে দেয় এরই পাশাপাশি বাফাতে গান শিখা হয়।এরপর নজরুল একাডেমীতে এডমিট হই, সেখানে এখনো আমি গান করছি।

আপনি নিজে গান লিখেন, সুর করেন, নিজেই ইনস্ট্রুমেন্ট প্লে করেন, এবং নিজেই কম্পোজিশন করেন ? একা এত কিছু কি ভাবে করেন?

নওরিন বললেনঃ প্রথমে কাজকে ভালোবাসতে হবে।আমার মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সব কাজ ম্যানেজ হয়ে যায়। দেখা গেলো রাতে্‌,মা্ঝ রাতে,অবসর সময় গুলো আমি মিউজিক করি।

আপনি শুধু মিউজিক করেই থেমে যাননি, নিজেই বাইক চালিয়ে থাকেন, নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করেন। এবং নিজের গাড়ি নিজেই সার্ভিসিং করেন। এক জন ছেলেই যে গুলো করতে পারে না, আপনি একজন মেয়ে হয়েও এর থেকে অনেক বেশি করেন, এত কিছু কি ভাবে সম্ভব হয় ? এর রহস্য কি ? একটু ডিটেইলসে শুনতে চাচ্ছি।

প্রশ্ন শোনা মাত্রই নওরিন বলেন, আসলে সব কিছুই আমার আগ্রহ থেকে।বাসায় তো সবাই আমাকে টম বয় বলে। আসলে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের দেখি গাড়ির মেইনটেনেস এর কাজ গুলো করছে ওরা পারলে আমি কেন পাররবোনা। এভাবেই আমিওি ইউটিউবের হেল্প নিয়ে শিখে যাই মেইনটেনেস এর কাজ গুলো। আসলে ফ্যামিলি যেন কখনো আফসোস না করে যে আমাদের যদি একটা ছেলে থাকতো। তাই ছেলেদের মতই সব কাজ করার চেষ্টা করি।

এখন পর্যন্ত আপনার নিজের লেখা সুর করা, সর্বমোট কয়টা গান আছে ? (হতে পারে প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত) এবং আপনি কি কি ইন্সট্রুমেন্টস বাজাতে পারেন ? এর লিস্ট জানতে চাচ্ছি।

উত্তরে তিনি বললেনঃ প্রকাশিত গান ৫৬ টি আছে, যেগুলো প্রকাশ হয়েছে। আর অপ্রকাশিত ৬৫০ এর উপরে রয়েছে।আরও দুই আড়াইশো গান এক্সট্রা রয়েছে যেগুলো এখনো পুরোপুরি কম্পলিট করা হয়নি।

আমি হারমোনিয়াম,দোতারা,ড্রাম,গীটার, বেহালা,বাঁশি,মন্দিরা,খঞ্জনি,জিপ্সি/করতাল,উলকিলেলে এইতোহ এগুলোই বাজাতে পারি।

এত কিছু কিভাবে শিখলেন ??

তিনি বললেনঃ আগ্রহ,প্রাকটিস,কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এমনিই সব হয়ে যায়।আর কিছু ছোটখাটো ইজি ওয়ে আছে সেগুলো মেনটেইন করলেই হয়ে যায়।

আগামী পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

বর্তমানে এডভোকেট হতে চাই ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু হও্য়ার চিন্তা করছি। তার পাশাপাশি বাহির থেকে মিউজিকের উপর একটা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আসবো।

নতুন মেয়েরা যারা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আসতে চায়, তাদের কি পরামর্শ দিবেন ?

পরামর্শ হিসেবে বললেনঃ অনুসরণ করা ভালো অনুকরন না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন গান করার চেষ্টা করো। গান দিয়ে যেন আমাদের দেশের পজিটিভ দিক গুলো রিপ্রেজেন্ট হয়।

শেষ প্রশ্ন-
বিশ্বের ৩৬ দেশ থেকে আমাদের সাইটে ভিজিটর আসে, সো আমাদের আনন্দ ভূবন ম্যাগাজিনের পাঠকদের উদ্দেশে কি বলবেন?

পাঠকদের উদ্দেশে বললেনঃ আমাদের এমন পাঠক আছে যারা শুধু নেগেটিভ দিক গুলো দেখে পজিটিভ দিক গুলো দেখেনা। তাদের উচিত নিউজ দেখে যাচাই করে এর পর বিবেচনা করা।

ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ ভালো থাকবেন

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.