আইনের মারপ্যাঁচেও সুর খোঁজে রেশমির মন, শুনেছেন?


হাইলাইটস

  • দেরি করে হলেও শুরুটা করা উচিত কারণ শুরুর কোন নির্দিষ্ট সময় থাকে না।
  • অপরাজিতা চক্রবর্তীর কথা সৌরভ বাবাইয়ের সুরে চেনা পথ চলা গানটি রেশমির সমস্তরকম গানে সমান দক্ষতার নিদর্শন৷
  • শুধু ক্লাসিকাল মিউজিক নয়, বাংলা আধুনিক গানেও সমান দক্ষ রেশমি।

এই সময় বিনোদন ডেস্ক: এ এক অন্য দুর্গার কথা। যিনি দশহাতে নয় দুইহাতেই সামলাচ্ছেন জীবন এবং কর্মক্ষেত্র এবং একই সঙ্গে হেঁটে চলেছেন নিজের স্বপ্নের পথে। সংগীতশিল্পী রেশমি পালিত মনে করেন বেটার লেট দ্যান নেভার। দেরি করে হলেও শুরুটা করা উচিত কারণ শুরুর কোন নির্দিষ্ট সময় থাকে না।

রাজকাহিনীর ‘জিয়া মানে না‘ এবং অন্যটি ওস্তাদ রশিদ খান এর বিখ্যাত গান ‘আওগে যব তুম’ এই দুটি জনপ্রিয় গানকে অসম্ভব সুন্দর মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন শিল্পী। স্বপ্ন এবং ভালোবাসার মিষ্টি গল্প এবং সেতার ও বাঁশির সুরের অনবদ্য মেলবন্ধন। ধ্রুপদী সংগীতের সঙ্গে মিউজিক ভিডিয়োর দৃশ্য নির্মাণ রেশমির গানে অন্য মাত্রা যোগ করে। তবে শুধু ক্লাসিকাল মিউজিক নয়, বাংলা আধুনিক গানেও সমান দক্ষ রেশমি। অপরাজিতা চক্রবর্তীর কথা সৌরভ বাবাইয়ের সুরে চেনা পথ চলা গানটি রেশমির সমস্তরকম গানে সমান দক্ষতার নিদর্শন৷

দ্বৈত কন্ঠে শিল্পী অরুণাশিষ রায় রেশমির সঙ্গে সমান পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন৷ রেশমি জানিয়েছেন গানের সুরে যে রাজকীয় মহিমা আছে সেই রাজকীয়তাকে বজায় রাখতেই অনেক দিন ধরে ভাবনা চিন্তা করছিলেন কীভাবে শ্যুট করা যায়৷ গানের সঙ্গে প্রতিটি ফ্রেমে, অন্দরসজ্জা থেকে পোশাক সবকিছুতেই বনেদিয়ানার সেই আমেজ রয়েছে যা গানে অন্য মাত্রা সংযোজন করেছেন৷ রেশমি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিষেক আচার্য, অভ্র সেনগুপ্ত,ঋতম দাস এবং সমগ্র টিমকে এত সুন্দর ভিডিয়োর জন্য।

রেশমি পেশায় একজন কর্পোরেট উকিল। নিউ ইয়র্কে তিনি একটি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরতা। সংগীত তাঁর প্যাশন কারণ তার সমস্ত জীবনটাই সংগীতময়। রেশমির জন্ম কলকাতায় কিন্তু বেড়ে উঠেছেন শিল্প শহর আসানসোলের বার্নপুরে। পরিবারে সংগীতের চর্চা ছিল। তাঁর বাবা তার প্রথম গুরু, যিনি তাঁকে হিন্দুস্থানি ক্লাসিকাল মিউজিক, সেমি ক্লাসিক্যাল, গজল, এবং অন্যান্য গানের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন।

শিক্ষকদের আশীর্বাদ সবসময় সঙ্গে থেকেছে রেশমির। তাঁদের তত্ত্বাবধানে সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ পাঠে হয়ে উঠেছেন পারদর্শী। বর্তমানে আমেরিকাতে থেকেও তিনি ভালোবেসে সঙ্গীত চর্চার সঙ্গে যুক্ত। একদিকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, হিন্দুস্থানি ক্ল্যাসিকাল, সেমি ক্ল্যাসিকাল, গজল অন্যদিকে বলিউড-এর গানের সুর এই আবহে ছোটো থেকে গান শুনে বড় হয়ে ওঠা রেশমির। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই সব সুরভঙ্গিমা, অনুভূতির নির্যাস সম্পৃক্ত একাত্ম হয়ে মিলেমিশে থাকে তাঁর নিজস্ব গানে ।

একদিকে কর্পোরেট উকিলের ব্যস্ততা অন্যদিকে নিজের জীবন এবং কর্মক্ষেত্র দুই সমান তালে সামলে ২০১৮ এর ডিসেম্বরে তিনি প্রথম রেকর্ড করেন গোলাম আলির গজল ‘সালনা সা সজন’। গজলের কথা ও সুর ভালো তো আগেই লাগতো তাঁর। সেই ভালোলাগার জিনিসটিকেই তাই নিজের মতো করে নিয়ে আসেন দর্শকদের সামনে। প্রবল জনপ্রিয় হয় সেই গান। এরপরই বলিউডের একটি গানের কভার করেন ২০১৯ এ যেটি মুক্তি পেয়েছে।

স্টুডিয়োতে গান রেকর্ড করা তাঁর মেয়েবেলার স্বপ্ন। বহু বছর পর ডিসেম্বরে কলকাতায় এসে হঠাৎই তার রেকর্ডিং করার কথা মনে হয়। আশা উদ্বেগ সবকিছুকে সঙ্গে করে রেকর্ডিং শুরু। বহু বছরের অপেক্ষার পর তার নতুন জগতে পা রাখা। মা ও পরিবারের সহযোগিতা তো ছিলই। এছাড়াও গুরুদের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসায় তিনি আশা রাখেন এরপর তিনি অনেক সুন্দর সুন্দর গান আমাদের উপহার দিতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
শক্তিরূপেণ! গোয়েন্দা দময়ন্তী আসছেন, মুক্তি পেল রহস্য-সিরিজের গান…

এই সময় ডিজিটালের বিনোদন সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.