|

আজ মনে পড়ে সেই গুণী মানুষটির কথা

 

মুক্তির গান ‘ফিল্ম সাউথ এশিয়া’ (১৯৯৭) থেকে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করে। এরপর ভিডিও চলচ্চিত্র ‘মুক্তির কথা’ (১৯৯৯) নির্মাণ করেন। মুক্তির কথায় মুক্তিযুদ্ধের ভিন্ন ভাষ্য ফুটে উঠে। তারেক মাসুদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন স্বাতন্ত্রিক চলচ্চিত্রকার। তিনি ছিলেন স্বাধীনধারার চলচ্চিত্রের জাত কারিগর। তার নির্মাণ ও ভাবনায় ভিন্নতর এক শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য উঠে এসেছে। তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ (২০০২) নির্মাণের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। এ ছবিটি ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপ্রেস্কি আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কারের আওতায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশে নির্মিত সবচেয়ে বেশি আলোচিত চলচ্চিত্রে পরিণত হয়। তার  উল্লেখযোগ্য অন্য চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্তর্যাত্রা (২০০৬)-তে  অভিবাসী বাংলাদেশিদের আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের চেষ্টা, ‘নরসুন্দর’-এ (২০০৯) মুক্তিযুদ্ধের বয়ানের বিনির্মাণ, সর্বশেষ তার ‘রানওয়ে’ ছবিটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে যা দেখলে মনে হবে তারেক মাসুদ একজন ভবিষ্যত্দ্রষ্টা। জঙ্গিবাদ যেভাবে বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, ঠিক এ বিষয়টি নিয়েই অনেক আগে তিনি তৈরি করেছিলেন চলচ্চিত্রটি। তারেক মাসুদের উল্লেখযোগ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিগুলো হচ্ছে- ‘সোনার বেড়ি’, ‘একুশে’ ও ‘নরসুন্দর’। এ ছবিগুলো গতানুগতিকতা ধারাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট তার পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘কাগজের ফুল’-এর শুটিং স্পট নির্বাচন করে ফেরার পথে মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন চলচ্চিত্রের এই অবিসংবাদিত ফেরিওয়ালা।২০১২ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘একুশে পদক’প্রাপ্ত নির্মাতা তারেক মাসুদের চলচ্চিত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সব ধরনের অন্ধতা আর যুক্তিহীনতার বিরোধিতা। যে স্বল্পসংখ্যক ছবি তিনি নির্মাণ করেছেন, তা আমাদের দেশের চিন্তাশীল চলচ্চিত্রের ধারাকে বক্তব্য প্রকাশ এবং ভাবনা আর নির্মাণশৈলীর গভীরতার কারণে সমৃদ্ধ করেছে সাহসিকতার সঙ্গে।

প্রথাবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী নবীন চলচ্চিত্রকারদের জন্য তারেক মাসুদের কাজ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল। তার শূন্যতা কখনই পূরণ হবে না। যে ধরনের চলচ্চিত্র তারেক মাসুদ তৈরি করেছেন, সেই প্রগতিশীল মন ও মননের চিন্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্র দিয়ে নিঃসন্দেহে আগামীর বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আর আমরা প্রত্যেকেই চাইবো এই প্রজন্মের প্রতিটি সৃষ্টিশীল কাজের জন্য  আপনি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকেন আমাদের সবার মাঝে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.