‘আমার বিয়ের সময় সোশ্যাল মিডিয়াই ছিল না, অনির্বাণ সেই ঠেলা বুঝছে…!’


হাইলাইটস

  • ‘দুর্গামতী’-র ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে গত বুধবার। এই ধরনের ‘হরর থ্রিলার’ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
  • দেখুন, এই অভিযোগ আমি করতে পারি না। কারণ, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিই আমাকে চিনিয়েছে।
  • আমি খুব কম বয়সে বিয়ে করেছি। তখন আমার মাত্র ২৭ বছর বয়স।

রাইমা চক্রবর্তী

শনিবারের বারবেলা। হালকা শীত মেখেছে কলকাতা। যদিও তিনি এখন দেশের বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে রয়েছেন। কারণ একটাই। কাজ-কাজ আর কাজ। একের পর এক ছবির কাজ রয়েছে অভিনেতার হাতে। রাতভর চলা শ্যুটিংয়ে যাওয়ার আগে মুম্বইতে নিজের বাড়িতে বসেই খানিক সময় বের করেছেন এই সময় ডিজিটাল-এর জন্য। একেবারে ঘরোয়া লুকে, তবে ঘড়ি ধরে আড্ডা দিলেন যিশু সেনগুপ্ত।

‘দুর্গামতী’-র ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে গত বুধবার। এই ধরনের ‘হরর থ্রিলার’ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

যিশু: সত্যি কথা বলতে এই ধরনের ছবি এর আগে আমি করিনি। ভূতের ছবিতে একদমই অন্য ধরনের কাজ এটা। সঙ্গে আবার রিভেঞ্জ-ড্রামা। বেশ ভালো লাগল এমন কাজ করে। একটা নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হল।

ভূতের ছবি দেখেন? ভয় লাগে? ভূতের ছবির শ্যুটিংয়ে কোনও গা ছমছম অভিজ্ঞতা হয়েছে?

যিশু: সত্যি কথা বলব? শ্যুটিংয়ের সময় ভয় পাইনি। কারণ সবটাই খুবই যান্ত্রিক। তবে দুর্গামতীর শ্যুটিংগুলো হয়েছে দারুণ সব জায়গায়। ভোপালের একাধিক হাভেলিতে কাজ হয়েছে। আর শ্যুটিংয়ের বেশিরভাগটাই রাতে হত। একদিন শ্যুটিং শেষ করার পর জানতে পেরেছিলাম, ওই হাভেলিটা হন্টেড। বাড়ি ফেরার পর কেমন একটা ভয় ভয় করেছিল সেদিন। এমনিতে ভয় পাই না। ভূতের ছবিও কম দেখি।

ভূমি পেডনেকরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

যিশু: কী অসাধারণ অভিনেত্রী। কী সুন্দর টাইমিং। খুবই গুণী নায়িকা। আমার দারুণ লেগেছে ভূমির সঙ্গে কাজ করে। শুধু ভূমিই না। ছবিতে মাহি গিল, আরশাদ ওয়ারসি রয়েছেন। এঁরা সবাই একেকজন অসামান্য অভিনেতা। তবে বস একজনই। ছবির পরিচালক অশোক। যেমন গল্প তেমনই ডিরেকশন। সব মিলিয়ে একটা দারুণ প্রজেক্ট দুর্গামতী।

এই সময় ডিজিটালের সঙ্গে আড্ডায়…

এই যে বলিউড আর টলিউডে একের পর এক ছবি। যিশু সেনগুপ্ত সামলান কী ভাবে?

যিশু: শুনুন, ভালো চরিত্র পাই, কাজের অফার পাই, পছন্দ হয়, মনে হয় পারব, কাজটা করি। এর বাইরে কিছুই না। সামলানোর কোনও বিষয় না। সেটা বাংলা ছবি হোক বা হিন্দি ছবি। আলাদা করে কোনও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার কথা ভাবিই না।

তাহলে কি এটা বলা যায় যে, অভিনেতা যিশুকে বলিউড অনেক বেশি করে কাজে লাগাচ্ছে?

যিশু:
দেখুন, এই অভিযোগ আমি করতে পারি না। কারণ, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিই আমাকে চিনিয়েছে। আমি ঋতুপর্ণ ঘোষ, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। এর পর হিন্দি ইন্ডাস্ট্রি থেকে কাজের অফার পেয়েছি, করেছি। করছি। করব। এই তো। বাংলাতেও কাজ করি, করব।

দুর্গামতীর চরিত্ররা...

দুর্গামতীর চরিত্ররা…

আপনার সহকর্মী অনির্বাণ ভট্টাচার্যের বিয়ে হল, আপনি গেলেন না?

যিশু: আমি কলকাতায় থাকলে নিশ্চয়ই যেতাম। অনির্বাণের নতুন ইনিংসের জন্য আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

জানেন তো অনির্বাণ ও তাঁর স্ত্রী মধুরিমাকে নিয়ে কত ট্রোল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়? বডি শেমিং থেকে বিয়ের সাজ, নানা সমালোচনা…

যিশু: সোশ্যাল মিডিয়ার এই নেগেটিভ বিষয়টার জন্যই আমি প্রয়োজনের বাইরে এতে থাকি না। সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো দিকগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে এই নেতিবাচকতা। আমি সত্যি বলছি, ঘৃণা করি এসব। সে কারণেই নিজের কাজের প্রচার বা কাজ সংক্রান্ত কিছু ছাড়া আমি সোশ্যাল মিডিয়াকে এড়িয়ে চলি। আমার ভালো লাগে না।

অনির্বাণকে কোনও পরামর্শ দেবেন?

যিশু: অনির্বাণ অসম্ভব বুদ্ধিমান ছেলে। ও জানে কোন জায়গায় কী করতে হবে। তাও একজন সিনিয়র দাদা হিসেবে বলব, মাথাটা অন্যদিকে কাজে লাগাতে। এসব জিনিসকে একেবারেই পাত্তা না দিতে। আর আমি জানি, অনির্বাণ এসব নিয়ে ভাবছে না। তবে মাঝে মাঝে মনের কথা সরাসরি বলে ফেলে তো! তাই বলছি, একদম পাত্তা না দিতে এই বিষয়গুলোকে।

বিয়ের দিন মধুরিমা ও অনির্বাণ

বিয়ের দিন মধুরিমা ও অনির্বাণ

অনির্বাণের বিয়ে শুনে মহিলাভক্তরা তো কাঁদছে। আপনার বিয়ের সময়ও তো এমন হয়েছিল, তার পর সামলালেন কী ভাবে?

যিশু: আমি খুব কম বয়সে বিয়ে করেছি। তখন আমার মাত্র ২৭ বছর বয়স। আর সত্যি বলতে, সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়াই ছিল না। তাই আমি বেঁচে গিয়েছি, আর অনির্বাণ সেই ঠেলা বুঝছে (হা হা হা হা হা)।

আমি কিন্তু এটাই হেডলাইন করব!?

যিশু: হ্যাঁ, সত্যিই বলছি। এটাই হয়েছে।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে কিছু বলবেন না?

যিশু:
আমি কী বলব? সৌমিত্র জেঠুর বায়োপিকে আমিই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় হয়েছি। কাজ করেছি। আর ঠিক এমন সময়ই… আমি আর কী বলব! আমি, পরমব্রত, ঋত্বিক বড় হয়েছি ওঁর সামনে। আমরা ওঁকে দেখে শিখেছি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু আমার কাছে পার্সোনাল লস, শুধু এটুকুই বলতে পারি। সেদিন থেকে আমাকে অনেকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছেন। কিন্তু আমি কিছু বলিনি। সত্যিই আমার কিছু বলার নেই এ ব্যাপারে।

ভালো থেকো জেঠু... (যিশুর সোশ্যাল পোস্ট)

ভালো থেকো জেঠু… (যিশুর সোশ্যাল পোস্ট)

যিশু সেনগুপ্তকে বাংলা ছবিতে আবার কবে দেখছি?

যিশু: আপাতত আরেকটা বলিউড ছবি এবং একটা তেলেগু ছবি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। ডিসেম্বর থেকে আরও একটা তেলুগু ছবির শ্যুটিং শুরু করব। বাংলা ছবিরও একটা কথা চলছে। হায়দরাবাদ যাব তেলুগু ছবির শ্যটিংয়ে। আজ তো রাতভর শ্যুটিং। কাজ আর কাজ… এমনই চলুক।

করোনার কালবেলায় সাবধানে কাজ করুন। দর্শক আপনার কাজের অপেক্ষায়…

যিশু: হ্যাঁ, আমিও দর্শকের অপেক্ষায়… ভালো থাকবেন সবাই।

আরও পড়ুন: হালকা শীতের আমেজ মাখা শহরে বাঁধা পড়লেন অনির্বাণ-মধুরিমা

এই সময় ডিজিটালের বিনোদন সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.