|

এই কান্নার শেষ কোথায়?

সম্পাদকীয়

মিম আর রাজিব আজকেও হয়তো কলেজে আসতো। তাঁদের বন্ধুদের সাথে ক্লাসের ফাঁকে হাসতো, খেলতো, হৈচৈ করতো ।

মিম হয়তো তার বন্ধুদের কথা দিয়েছিল আজকে সবাইকে সে আমের আচার কিনে খাওয়াবে। কিন্তু মিম আর আসবেনা বন্ধুদের আমের আচার কিনে খাওয়াবে না। কিংবা রাজিব তার বন্ধুদেরকে কথা দিয়েছিল আজ সে ক্রিকেট বল কিনে নিয়ে যাবে। চার-ছক্কা মারবে। কিন্তু ক্রিকেটের মাঠে আজ আর চার-ছক্কা মারার উল্লাস নেই। আছে কান্না। রমিজ উদ্দীন কলেজের সবাই কাঁদছে। শতশত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক,কর্মচারী সবাই কাঁদছে। কাঁদছে মিম-রাজিবের বাবা-মা। কিন্তু এই কান্নার শেষ কোথায়?

শুধুমাত্র মিম রাজিবই না প্রতিদিনই সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে এরকম অনেক মিম রাজিব। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরেই (জানুয়ারি-জুন) প্রায় আড়াই হাজার সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। আর এসব দূর্ঘটনায় দুই হাজার ৪৭৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ছয় হাজারেও বেশি। তথ্য মতে, নিহতদের বেশিরভাগই পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিল।

এইসব পরিবারের কথা কে ভাববে? মিম-রাজিবকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা যে স্বপ্ন দেখেছিল তার কী হবে? এই মৃত্যুগুলো কী সবসময় স্বাভাবিক বলেই গণ্য হবে? এর কি কোনোই বিচার নেই? কোনো সমাধান নেই? দেশের অভিভাবকরা শুধুই কী হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন?

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.