|

গরম থেকে বাঁচার ঝটপট সমাধান

ভ্যাপসা গরম, কটকটে রোদ অথবা প্রচণ্ড তাপ। যেভাবেই বোঝানো হোক না কেন, অনুভূতি কিন্তু একটাই—গরম। প্রকৃতি মাঝেমধ্যে বৃষ্টির ছোঁয়া দিচ্ছে। তারপরও কাটেনি গরমের প্রভাব। তীব্র গরমে সবার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। বাড়িতে বসে থেকেও গরমের হাত থেকে রেহাই নেই। আর বাইরে বেরুলে তো কথাই নেই।

এ কারণে মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, বমি বমি ভাব, বমি ও দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ লেগেই থাকে। কারো কারো গরমে ঘাম বসে গিয়ে খুব কাশি হয়।

প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে সহজ কিছু পরামর্শ-

চুল ড্রাই করবেন না : গরমে চুল ড্রাই করবেন না। এতে গরম বেশি লাগবে। এমনকি তেলও মাখবেন না। শ্যাম্পু করুন নিয়মিত। তাহলে ঝরঝরে লাগবে নিজেকে। প্রতিদিন গোসল করুন কয়েকবার। চুলগুলো ছড়িয়ে রাখুন। ফলে বাতাস লাগবে মাথায়। মাঝে মধ্যে কলার মোচার মতো করে খোঁপা করুনÑ যাতে ঘাড় ও কাঁধে বাতাস লাগতে পারে। তবে খোঁপা করে বেশিক্ষণ রাখবেন না। বেশিক্ষণ খোঁপা করে রাখলে টাইট চুলের ফাঁক দিয়ে মাথার ত্বকে বাতাস পৌঁছাতে পারবে না।

প্রসাধন কম মাখুন : প্রসাধনে শরীরের লোমকূপ আটকে যায় বলে বাতাস ঢুকতে পারে না। এ ছাড়া শরীরের ঘামও বাতাসের সংস্পর্শে বেরিয়ে আসতে পারে না। কিছু প্রসাধনীতে তৈলাক্ত উপাদান থাকে। তা ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয়। একমাত্র সানস্ক্রিন ক্রিম ছাড়া আর কিছু এ সময় না মাখাই ভালো। তবে সানস্ক্রিন ক্রিম শুধু মুখে নয়, শরীরের উন্মুক্ত স্থানেও মাখতে হবে। কড়া পারফিউম ব্যবহার করা যাবে না। হালকা করে পাউডারের প্রলেপ দিতে পারেন।

সালাদ বেশি করে খান : সালাদ ঠা-া রাখে শরীর। দুঃসহ গরমে বেশি করে সালাদ খান। এ সময় চর্বিজাতীয় খাবার খাবেন না। বিভিন্ন ধরনের সবজি খাবেন। যে নারীদের শরীরে মেদ জমে আছে, গরম তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

বেশি বেশি পানি পান করুন : গরম থেকে রক্ষা পেতে পানির বিকল্প নেই। হাতের কাছে সব সময় পানি রাখবেন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এ সময়। তৃষ্ণা না পেলেও পান করুন। ঠা-া থাকবে শরীর। প্রয়োজনে রেফ্রিজারেটরে রাখা পানি পান করতে পারেন। এক চুমুক ঠা-া পানি শরীরে বইয়ে দেবে চমৎকার শীতল অনুভূতি। মাঝে মধ্যে মুখম-লে ঠা-া পানির ঝাপটা দিন। ভালো লাগবে।

সুতি কাপড় পরুন : গরমে সুতির ম্যাক্সি পরে থাকুন। আঁটসাঁট পোশাক পরবেন না। সাদা পোশাক পরুন। অন্তর্বাসও যেন সুতির হয়। সিনথেটিক ও টাইট পোশাক ব্যবহারে শরীর ঘেমে যাবে। শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ঘাম জমা হয়ে সৃষ্টি হবে চুলকানিসহ বিভিন্ন চর্মরোগ।

কাজ শেষ করেই চুলো বন্ধ করে দিবেন: রান্নার সময় ঘরে তাপ ছড়িয়ে যায়। কিন্তু রান্না তো করতেই হবে। তাই রান্নার কাজ শেষ করেই চুলো বন্ধ করে দিবেন। সম্ভব হলে রান্না ঘরে একটি একজস্ট ফ্যান লাগিয়ে নিয়ে তা ছেড়ে দিন। ভিতরের গরম তাপ বের হয়ে যাবে।

লেবুর শরবত খান : গরমে লেবুর শরবত হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য চমৎকার পানীয়। শরবতে একটু লবণ ও চিনি মিশিয়ে নিন। চিনি শক্তি জোগাবে এবং লবণ পূরণ করবে শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া লবণের অভাবটুকু। লেবুতে থাকে ভিটামিন ‘সি’। এই গরমে ভিটামিন ‘সি’ ফিরিয়ে দেবে লাবণ্যতাও।

ঘর ঠান্ডা রাখুন : দরজা-জানালায় সাদা রঙের পর্দা টানান যাতে বাইরে থেকে ঢুকতে না পারে সূর্যের তীব্র আলো। মেঝেতে ঠান্ডা পানি ঢালুন। পর্দাগুলোও ভিজিয়ে দিন পানি দিয়ে। ঘরের ছাদেও পানি ঢালতে পারেন। ছাদজুড়ে শামিয়ানা টানিয়ে নিন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.