‘নাকাব’ রিভিউঃ ‘অ্যাকশনে’ হোক বা ‘ভৌতিকে’ হোক বা ‘ইমোশনে’ এই ছবির পরতে পরতে রয়েছে টুইস্ট!

 

ছবিঃ নাকাব

অভিনেতাঃ শাকিব খান, রুদ্র নীল ঘোষ, নুসরাত জাহান, সায়ন্তিকা ব্যানার্জী, সুদ্বীপ মুখার্জি, খরাজ মুখার্জি, সুপ্রিয়া দত্ত, ভারত কউল, রেবেকা রউফ, কমল পাটেকার, শিবা শানু।

পরিচালকঃ রাজিব কুমার বিশ্বাস

প্রযোজকঃ শ্রীকান্ত মেহতা, মহেন্দ্র সনি, এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্ট

মিউজিকঃ দেব সেন

রেটিংঃ ৪.২৫/৫

পটভূমিঃ শুরুতে বলে রাখা ভালো এই ছবিটি কিন্তু ২০১৫ সালের তামিল সিনেমা ‘মাসইউ এনগিরা মাসিলামানি’ থেকে অনুপ্রাণিত৷ ছবিটির গল্প স্বল্প কথায় বলতে চাইলে বলা যায়, শাকিব (ইন্দ্রজিৎ ওরফে শক্তি) তার প্রথম স্ত্রীর মেয়ের মায়ের অভাব ঘোচাতে বিয়ে করেন সায়ন্তিকা (আনুরাধা) কে। এরপর তাদের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন শাকিব (মাস)। বাবা শাকিব একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি দেশে আসেন ফ্যাক্টরি দেয়ার জন্য ঠিক তখনই ছবির মোড় ঘুরে যায়। যখন তার ক্রয়কৃত জমি স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নজরে পরে তখন তাদের আক্রমণের শিকার হোন শাকিব (শক্তি) পরিবার। এক্ষেত্রে বোনের বিচক্ষণতায় শিশু শাকিব (মাস) বেঁচে গেলেও বাবা শাকিব (শক্তি) , মা সায়ন্তিকা (আনুরাধা) এবং বোন মারা যায়।

এরপর বেড়ে উঠে দুই বন্ধু শাকিব (মাস) ও রুদ্র নীল (রহিম)। ছবির একপর্যায়ে এসে ‘মাস’ প্রেমে পরেন নায়িকা নুসরাতের (দিশা)। তবে আকস্মিক দূর্ঘটনায় একদিন বন্ধু রহিম মারা যায় যদিও মৃত রহিমকে শাকিব (মাস) দেখতে পায়। এরপর অনেক মৃত মানুষ যারা ভূতের আকার ধারণ করে থাকে। তাদের সাথে একপর্যায়ে সাক্ষাৎ হয় মাস’র। এরপর তাদের জীবদ্দশায় থেকে যাওয়া অপূর্ণ ইচ্ছা ধারাবাহিকভাবে পূরণ করেন শাকিব (মাস)। আর ছবিতে পরতে পরতে আছে টুইস্ট, থ্রিলার, অ্যাকশন। তবে গল্পের সবকিছু তো বলা যাচ্ছে না তাইতো জানার জন্য দেখতে যেতে হবে প্রেক্ষাগৃহে।

পরিচালনাঃ রাজিব বিশ্বাসের ছবি এবং তাঁর পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন হয় না। তবে এই ছবি পরিচালক রাজিব বিশ্বাসের সেরা ছবিগুলির তালিকায় হয়তো নিঃসন্দেহে জায়গা পাবে তবুও কিন্তু ক্যারিয়ার সেরা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু ভিন্নতার দিক থেকে বলা যায় নতুন চমক আর টুইস্টে টইটুম্বুর। তবে কীভাবে অভিনেতা অভিনেত্রীদের থেকে সেরাটা বের করে নিতে হয় তা যে তাঁর নখদর্পণে সেকথা আরও একবার প্রমাণ করলেন রাজিব।

তবে চিত্রনাট্য নিয়ে রাজিবের আরও যত্নবান হওয়া উচিৎ ছিল হয়তো। আবেগের দিক বিচার করলে এই ছবিতে অনেকটাই মাত খেয়েছেন রাজিব। ক্লান্তিকর আখ্যান বেশ কিছু জায়গায় ছন্দপতন ঘটিয়েছেন এবং ভৌতিক দৃশ্যগুলোও ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অভিনয়ঃ ‘নাকাব’ ছবির মধ্যমনি ‘মাস’/ ‘শক্তি’ শাকিব দুইটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনবদ্য। তিনি যে একজন জাত অভিনেতা তা আবারও প্রমাণ করলেন এই সিনেমায় দূর্দান্ত অভিনয় দিয়ে। ছবিতে একাধিক অ্যাকশন দৃশ্য ছিলো তা কিন্তু অত্যন্ত সাবলীলভাবে এবং নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন এই সুপারস্টার অভিনেতা। ছবির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘মাস’র বন্ধু রহিম (রুদ্র নীল ঘোষ)। যদিও কমেডি টাইপের ছিলো কিন্তু অভিনয় করেছেন শতভাগ নির্ভুল। হয়তো বা এটিই ছিলো তার ক্যারিয়ার সেরা অভিনয়।শাকিবের দুই নায়িকা নুসরাত (দিশা) ও সায়ন্তিকা (আনুরাধা)। তাদের অভিনয় করার খুব একটা জায়গা ছিলো না। তবে যতটুকু সুযোগ ছিলো ভালো করেছেন। অন্যদিকে বাকি চরিত্রগুলো ছিলো খুবই নগন্য। যে যার মতো যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছেন তাদের চরিত্রগুলো ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে। আসলে শাকিব খানের সিনেমায় অন্যান্য শিল্পীদের খুব বেশী কিছু করার সুযোগ থাকে না। তবে এই ছবিতে বন্ধু রহিমের চরিত্র ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গানঃ পরিচালক রাজিব বিশ্বাসের ছবিগুলোতে গানে আলাদা একটা চার্ম থাকে এবং গানগুলো সাধারণত মানুষকে অনেক রিলেট করতে পারে কিন্তু এই ছবিতে তারও কমতি আছে। ছবিতে তিনটি গান আছে তন্মধ্যে ‘তখন বাজে বারোটা’ গানটি মন কাড়ে। পক্ষান্তরে বাকি গান দুইটি ‘তোর হাঁটা চলা’ ও ‘হয়ে আয়’ শুনতে ভালো লাগলেও মনে আলাদা করে দাগ কাটে না। যদিও অনেক তারকা কন্ঠশিল্পী গান গেয়েছেন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.