পয়লা দানেই বাজি জিতে বিধায়ক হলেন ৭ তারকা


হাইলাইটস

  • টলিপাড়ায় প্রার্থীরা এ বার বিধানসভা নির্বাচনে খেললেন বটে!
  • কেউ গেরুয়া শিবির। কেউ সবুজ শিবির।
  • অনেকেই হেরে ভূত।
  • আর কঠিন লড়াইয়ে বাজিমাত করলেন কারা?

ভাস্বতী ঘোষ

টলিপাড়ায় প্রার্থীরা এ বার বিধানসভা নির্বাচনে খেললেন বটে! কেউ গেরুয়া শিবির। কেউ সবুজ শিবির। অনেকেই হেরে ভূত। আর কঠিন লড়াইয়ে বাজিমাত করলেন কারা? এ বারের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে চর্চিত দু’টি নাম পরিচালত রাজ চক্রবর্তী আর অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ যখন গেরুয়া শিবিরের হয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন, তখন কাঞ্চনকে বাজি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রুদ্রনীল ঘোষকে জবাব দিতে চান, এমন চর্চা হয়েছে এতদিন। উত্তরপাড়া থেকে তৃণমূলের প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক জয়ী হয়ে রবিবার প্রমাণ করলেন, দিদি এখনও ঠিক ঘোড়াতে বাজি লাগান। দিদির আর এক ‘ব্লু আইড বয়’ রাজ চক্রবর্তী। ব্যারাকপুরে কঠিন আসনটি তিনি চোখ বন্ধ করে তুলে দিয়েছিলেন পরিচালক রাজের হাতে। অর্জুন সিং-এর চত্বর হওয়া সত্ত্বেও সে আসন রাজ ছিনিয়ে এনেছেন। এর পরের চর্চিত নামটি জুন মালিয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য জুড়ে গত পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন করেছেন তার উপর ভরসা করলে, তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না, এমনটা দাবি করেছিলেন অভিনেত্রী জুন মালিয়া। মেদিনীপুর সদর থেকে সবুজ শিবিরের এই প্রার্থী ছক্কা হাঁকিয়েছেন। অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী গত বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন। এ বার চণ্ডীপুর থেকে আসন দখলে আনলেন সবুজ শিবিরের জন্য।

এ বার আসা যাক কালো ঘোড়াদের কথায়। অভিনেতা হিরণ টলিপাড়াতেই তেমন পাত্তা পান না। তিনি কি গেরুয়া শিবিরের হয়ে আসন বের করতে পারবেন, প্রশ্ন ছিল। নাম ঘোষণার দিন খড়গপুরের এই প্রার্থী চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘এ টিকিটে জয় নিশ্চিত’। এত বড় কথা বলার পর, সে কথার মান রেখেছেন তিনি। বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখ লাভলী মৈত্রর নামটি যখন ঘোষণা হয় সোনারপুর দক্ষিণ থেকে, তখন অনেকের প্রশ্ন ছিল ‘কে লাভলী মৈত্র’! লাভলীর বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী ছিলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। টলিপাড়ায় নামের ভারে যে অঞ্জনা অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন লাভলীর থেকে, সংশয় নেই। কিন্তু টলিপাড়া যা ভাবে, সোনারপুর দক্ষিণ তা ভাবেনি। ডার্ক হর্স লাভলী আসনটি জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দিয়েছেন। তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গায়িকা অদিতি মুন্সি। কোনও হইচই ছাড়াই শান্তভাবে রাজারহাট গোপালপুরের আসনটিকে সবুজ শিবিরের দখলে এনে দিয়েছেন তিনি। বাহবা দাবি করতে পারেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালও। তাঁর বিরুদ্ধে মমতা সৈনিক ছিলেন সায়নী ঘোষ। বিরাট হইচই করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত চিঁড়ে ভেজাতে পেরেছেন অগ্নিমিত্রা। ব্যর্থ হয়েছেন সায়নী।

এ বার আসা যাক পোড় খাওয়া প্রার্থীদের কথায়। বারাসাত থেকে ২৩০০০-এর বেশি ভোটে হইহই করে জিতেছেন পোড় খাওয়া তৃণমূল প্রার্থী চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। যিনি এই কেন্দ্রেই বিধায়ক ছিলেন। মুখে হাসি ব্রাত্য বসুর। দমদম থেকে সবুজ শিবিরের হয়ে এ বারও ম্যাচ নিজের পকেটে পুরেছেন তিনি, গত বারের মতোই। চন্দননগর থেকে সবুজ শিবিরের জন্য নিজের জয় ধরে রাখলেন ইন্দ্রনীল সেন। চৌরঙ্গী থেকে সবুজ শিবিরের জন্য আসন দখলে এনেছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।

মোটের ওপর টলিপাড়ায় প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন ১৯ জন। জয় পেলেন ৬ জন।

কোভিড রোগীদের সাহায্য করতে ‘হেল্প লাইন নম্বর’ চালু মিমির
টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.