ফেডারেশনের মিছিলে না থাকায় শিল্পীদের ‘হুঁশিয়ারি’! একে একে মুখ খুলছেন শিল্পীরা


এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ধিক্কার মিছিলে হুঁশিয়ারি! শিল্পীদের নিয়ে গভীরভাবে ভাবা হবে? রবিবারের পর থেকেই গোটা টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক৷ বিতর্কের কেন্দ্রে ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশায়নস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া৷ আর বিতর্ক শুরু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঘুরে বেড়ানো এক মেসেজ থেকেই!

ব্যাপারটা একটু বিশদে বলা যাক৷ হাওড়ার জনসভায় ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বক্তব্যের মাঝে হঠাৎই বলে ওঠেন টলিউডে ‘মাফিয়ারাজ’ চলছে৷ রুদ্রনীলের সেই মন্তব্যের প্রতিবাদেই রবিবার ফেডারেশনের তরফ থেকে ডাকা হয়েছিল একটি ধিক্কার মিছিল৷ টলিপাড়ার বেশ কিছু শিল্পী ও কলাকুশলীরা এই ধিক্কার মিছিলে অংশ নিয়েছিল৷ তবে অনেকেই নানা কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সেখানে যেতে পারেননি৷ তবে বিতর্ক শুরু হয় হোয়াটসঅ্যাপে আসা এক মেসেজ থেকেই৷ যেখানে একদিকে মিছিলে অংশ নেওয়া শিল্পীদের ধন্যবাদ জানানো হয়, তো আরেক দিক যারা মিছিলে আসতে পারেননি তাঁদের উদ্দেশ্যে বলা হয়. ‘আগামী দিন ফেডারেশন গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করবে৷’ মেসেজে এই শব্দচয়ন থেকেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক৷ শিল্পীরা অনেকেই মনে করেন এর মধ্যে ফেডারেশনের হুঁশিয়ারি প্রকাশ পেয়েছে৷

টলিউডের বেশ কিছু শিল্পীদের সঙ্গে এই বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে, অনেকেই মন্তব্য করতে চাননি৷ তবে সোশাল মিডিয়ার পোস্ট গোটা ঘটনার সমালোচনা করেছেন পরিচালক প্রভাত রায়, অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী৷ অন্যদিকে মেসেজটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন রূপাঞ্জনা মৈত্র৷

প্রভাত রায় সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, ‘কেউ বলছে তোলাবাজি, কেউ বলছে মাফিয়া রাজ৷ কেউ আবার বলছেন রগড়ে দেব৷ আবার কেউ বলছে মিছিলে না আসতে গভীরভাবে ভাবা হবে৷ ভাবতে অবাক লাগছে, এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমি কত বছর কাজ করেছি৷ কখনও এসব কথা শুনিনি৷’

অন্যদিকে সুদীপ্তা চক্রবর্তী তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, ‘সিনেমা/টিভির কাজে যাঁদের technician বা কলাকুশলী বলা হয়, আমার কাছে তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই এক একজন শিল্পী। একটা গল্প বা চিত্রনাট্য লেখা বা তাকে সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে পর্দায় আনা, বা ক্যামেরায় ছবি তোলা যেমন কোনোদিনই শুধু যান্ত্রিক ব্যাপার নয়, সঠিক সময় সঠিক আলো টা দেওয়া বা কেটে দেওয়াও শিল্প ছাড়া আর কিছু নয়। প্রতিনিয়ত দেখে যাই, যাঁদের শৈল্পিক রূপসজ্জা য়, চুল বাঁধায়, প্রপস সজ্জায় বা নিত্য নতুন flavour এর চা খেয়ে আমরা (পড়ুন শিল্পীরা) অভিনয় করি, অন্ধকার ঘরে একা বসে বসে যাঁরা সেই বিপুল shot এর পাহাড়কে কোন এক জাদুবলে কেটে জুড়ে একটা আস্ত সিনেমা বানিয়ে ফেলেন, তাঁরা আর যাই হন, আদতে প্রত্যেকেই এক একজন শিল্পী…. নিজের মেধায় বা অধ্যাবসায় বা দুটো দিয়েই আজ নিজের নিজের জায়গায় রয়েছেন। দৈনিক পারিশ্রমিকে কাজ করেন বলে তাঁরা যদি শ্রমিক বা technician হন, তাহলে সেই হিসেবে আমিও একজন technician ই।
আর সেইজন্যই চিন্তা হচ্ছে আমার ও। স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছেন বলে যাঁদের নিয়ে মিছিল বের হলো, তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়তো সত্যিই স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে বেরিয়েছিলেন। তাতে কারুর কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু যাঁরা গেলেন না, তাঁদের নিয়ে ‘গভীর ভাবে চিন্তা ভাবনা করা হবে ‘ জেনে একটু অদ্ভুত লাগছে।
গোটা মিছিল টা আদৌ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল তো?’

রূপাঞ্জনা মৈত্রের ফেসবুক ওয়াল ৷

অভিনেত্রী ও বিজেপি নেত্রী রূপাঞ্জনা মৈত্র ফেসবুকে পোস্টও করেছেন সেই মেসেজ৷ যা নিয়েই এত বিতর্ক৷
টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.