ভেন্টিলেশনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সংকটমুক্তির একমাত্র উপায় ‘মিরাকল’!


হাইলাইটস

  • শনিবার তাঁর মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।
  • বেল ভিউ ক্লিনিকের ডাক্তারদের দাবি, ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ৪০ দিন ধরে যুদ্ধ করেও তিনি স্থিতিশীল নন। মিরাকলের প্রয়োজন।’
  • অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই তাঁর কিডনির পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।

এই সময় বিনোদন ডেস্ক: গত ৬ অক্টোবর থেকে কলকাতার বেল ভিউ নার্সিং হোমে ভরতি রয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। শনিবার তাঁর মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর শরীরে কোনও উন্নতি দেখা যায়নি। ৮৫ বছরের অভিনেতার বেঁচে ফেরা এখন শুধুই অলৌকিক বা মিরাকলের হাতে। বেল ভিউ ক্লিনিকের ডাক্তারদের দাবি, ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ৪০ দিন ধরে যুদ্ধ করেও তিনি স্থিতিশীল নন। মিরাকলের প্রয়োজন।’ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পরই তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। ১৪ অক্টোবর তিনি করোনা নেগেটিভ হয়ে যান। কিন্তু তাঁর কো-মর্বিডিটি থাকায় শারীরিক পরিস্থিতি প্রতিদিনই খারাপ হয়েই চলেছে।

করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্তির পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নতির দিকে যাচ্ছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি হাঁটতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁরা। যদিও ২৫ অক্টোবর চিকিৎসক অরিন্দম কর, যিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান তিনি জানান, অভিনেতার শারীরিক পরিস্থিতি ভালো নেই। তাঁর জ্ঞান ফিরছে না এবং চেতনাস্তর অত্যন্ত নীচে নেমে গিয়েছে। চিকিৎসকদের সব রকম চেষ্টার পরেও অভিনেতার শারীরিক পরিস্থিতির কোনও উন্নতি দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই তাঁর কিডনির পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। তখন থেকেই তাঁকে ডায়ালিসিস করানো শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার সফল ভাবে সেরে ফেলা হয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের রক্ত থেকে প্লাজমা-শোধনের কাজ। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা জানান, এ দিন প্রথম প্লাজমাফেরেসিসের পর অশীতিপর অভিনেতার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীলই আছে। প্লাজমাফেরেসিসের সময় কোনও সমস্যা না-হলেও বিকেলের দিকে তাঁর হৃদস্পন্দন আচমকা অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং তখনই কিছুক্ষণের জন্য তাঁর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বেশ অস্থির হয়ে পড়ে।

অনেক রাতে দেওয়া বুলেটিনে প্রধান চিকিৎসক জানান, শারীরিক সেই অস্থিরতা দ্রুত সামলে নেওয়া হয়। তবে এ দিন ফের জ্বর এসেছে অভিনেতার। চিকিৎসকরা মনে করছেন, কোনও সংক্রমণের জন্য নয়, বারংবার রক্ত দেওয়ার জেরেই অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়ায় এই জ্বর এসেছে। শুক্রবার একপ্রস্থ ডায়ালিসিসও করা হয় অভিনেতার। চিকিৎসকেরা জানান, বর্ষীয়াণ অভিনেতার চেতনাস্তর পাঁচে নেমে গিয়েছে। সাধারণত এই চেতনা স্তর তিন পর্যন্ত নেমে গেলেই চিকিৎসকরা ব্রেন ডেথ হিসেবে মেনে নেন। দিন কয়েক আগে পর্যন্তও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যারের চেতনাস্তর ৯ থেকে ১০-এর মধ্যে ছিল।

আরও পড়ুন: চেতনাস্তর নামল পাঁচে, অত্যন্ত সংকটজনক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়!

এই সময় ডিজিটালের বিনোদন সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.