|

“শাকিব খান”কে নিয়ে ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কিছু?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভিনেতাদের মধ্যে যদি প্রশ্ন করা হয় বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অভিনেতা কে? অথবা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা কে? উত্তর কিন্তু একটাই সেটি হলো- শাকিব খান।

শাকিব খান এমন একজন মহা তারকা যাকে তাঁর পাগল ভক্তরা নানান সময়ে নানারকম  নামে ডাকে কিংবা উপাধি দিয়ে থাকে। যেমনঃ কিং খান, ঢালিউড বাদশাহ, টালিউড বাদশাহ, সুপারস্টার, বাংলার নবাব, খান সাহেব, ভাইজান, বাংলার বস, বাংলার ডন সহ আরও কত যে টাইটেল! এখানে একটি কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে আর যাই হোক ঢাকাই সিনেমার সোনালী যুগে  কিংবা বর্তমান যুগে এতো উপাধি কিন্তু আর  কেউ পায় নি।

এবারে আসা যাক মূল প্রসঙ্গে, সম্মানিত পাঠক আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন একটা সময় যখন শাকিব খান উঠতি তারকা ছিলেন তখন কিন্তু সেই সময় অনেক প্রতিষ্ঠিত তারকাদের অভিনীত সিনেমা কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে  মুক্তি পেয়েছিল। কিংবা প্রয়াত মহা নায়ক মান্না পরবর্তী যুগে যখন শাকিব খান একাই পুরো ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রি টেনে নিয়ে গেলেন তখনও কিন্তু তাঁর সিনেমা মুক্তি নিয়ে কোনো রকমের সমস্যা হয় নি।

তবে সমস্যা বা ষড়যন্ত্র যাই বলেন, এটি মূলত ডানা মেলতে লাগলো যখন থেকেই শাকিব খান সংস্কৃতি বিনিময়ের উদ্দেশ্যে যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমে নির্মিত সিনেমায় অভিনয় করা শুরু করলেন। এরপর তো এফডিসিতে জঘন্যতম হামলার স্বীকার, প্রাণনাসের হুমকি এবং পরবর্তীতে তাঁকে নিষিদ্ধ করা সহ আরও কতো কী হয়ে গেলো সেগুলো না হয় আর নাই বা বললাম। তবে সিনেমা মুক্তির নানান ষড়যন্ত্র নিয়ে যেটা বলছিলাম, আসলে আমরা একটা সময়ে মনে করতাম যৌথ প্রযোজনার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম থাকায় হয়তো সিনেমা মুক্তিতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে পক্ষে বিপক্ষে হয়তো অনেকেই অনেক রকম যুক্তি দেখাবে সেটা না হয় মানলাম কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন সাফটা চুক্তির মাধ্যমে সিনেমা মুক্তি শুরু হলো তখন কিন্তু শাকিব খান ব্যতীত বাকিসব নায়ক-নায়িকাদের সিনেমা ঢালাওভাবে মুক্তি পাওয়া শুরু করলো। তবে যাতে শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি না পায় তার জন্যে ঠিক তখনই শাকিব খান কে ঠেকানোর জন্য নতুন একটা আইন পাশ করা হলো- বাংলাদেশে এখন থেকে সাফটা চুক্তির মাধ্যমে আমদানিকৃত কোনো সিনেমা বড় বড় উৎসব গুলোতে মুক্তি পাবে না। এই আইন টি অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তবে উৎসব পরবর্তী সময়ে অন্য অভিনেতাদের সিনেমা যখন বিনা বাঁধায় মুক্তি পায় ঠিক তখনই শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘চালবাজ’ এবং পরে ‘ভাইজান এলো রে’ মুক্তি পেতে অনেক বাঁধা আর ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়। তর্কের খাতিরে না হয় মানলাম যে, দেশের অন্যান্য সিনেমা যাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সেইজন্য কিছুদিনের জন্য কালক্ষেপণ করা হয়েছিল। কিন্তু একটা জিনিস কে মেনে নিবে? যে দেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত একদম লোকাল সিনেমা ‘সুপার হিরো’ র মুক্তিতে নানান রকমের বাঁধা আর ষড়যন্ত্র!

এবার আসা যাক, বহুল প্রতিক্ষীত বিগ বাজেটের সিনেমা ‘নাকাব’ র মুক্তির বিষয়ে যেখানে ভারতে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে ২১শে সেপ্টেম্বর প্রায় দেড়শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে সেখানে বাংলাদেশে একই তারিখে মুক্তি পাবার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউই জানে না ঠিক কবে মুক্তি পাবে! তাহলে কী বলা যায় এটি নিয়মের বেড়াজাঁল নাকি ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কিছু?

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.