‘শিল্পী হিসাবে আমায় ভেঙে, নতুন করে গড়েছেন বুদ্ধদা’, চন্দন রায় সান্যাল


নিজস্ব প্রতিবেদন-প্রয়াত বর্ষীয়ান পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (Buddhadeb Dasgupta)। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা নাগাদ নিজের বাড়িতে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্র থেকে সাহিত্য জগতে শোকের ছায়া। উড়োজাহাজ ছবিতে অনেকটা সময় পরিচালকের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন অভিনেতা চন্দন রায় সাণ্যাল। শিখেছিলেন অনেককিছু। সকাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ফোন যায় চন্দন রায় সান্যালের কাছে, তবে তিনি উত্তর দিতে পারেন নি। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে জানান, এখবরে তিনি মর্মাহত, তাই শব্দ হারিয়ে ফেলেছেন, সেইজন্যই সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। 

আরও পড়ুন: Buddhadeb এর ছবি যেন পর্দায় কবিতা, জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত ৫ ফিল্মের তালিকা

দিল্লিতে তাঁর বেড়ে ওঠার সময় তিনি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর চলচ্চিত্র দেখেছেন বিভিন্ন চলচ্চিত্রোৎসবে। ‘বাঘ বাহাদুর’, ‘উত্তরা’, ‘তাহাদের কথা’ সহ আরও অনেকে এই চলচ্চিত্র তাঁর মনের খুব কাছের । ‘তাহাদের কথা’-য় মিঠুন চক্রবর্তীর অসাধারণ অভিনয় মন ছুঁয়ে গিয়েছিল অভিনেতার, এই ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন । অভিনয় জগতে আসার আগে থেকেই চন্দন  ছিলেন চলচ্চিত্রনির্মাতার ভক্ত ছিলেন। একজন সাধারণ বাঙালির কাছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ছিলেন গড অফ সিনেমা। ছবি তৈরির তাঁর নিজস্ব একটি ধরন ছিল, তাঁর চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারা এখানেই শেষ হল।

কাউকে তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের জন্য ছবি তৈরি করতেন। চন্দন রায় সান্যালের স্বপ্ন ছিল তাঁর পরিচালনায় অভিনয় করা। চন্দন জানান-‘সৌভাগ্যবশত বা দুর্ভাগ্যবশত আমি তার শেষ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। চন্দন এও জানান-‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে থাকার সময় তিনি আমাকে প্রথম টোপের জন্য ডেকেছিলেন, তিনি আমাকে শুধু একটি জিনিস জিজ্ঞাসা করেছিলেন,  তুমি কি বানরের সাথে অভিনয় করতে পারবে? তাঁর ছবিতে সুযোগ পাওয়ার জন্য বানরের সাথে অভিনয় করেছি । একটি দৃশ্য বোঝানোর তাঁর যে শৈলি ছিল তা সকলের থেকে আলাদা, যেটি আমায় মুগ্ধ করত।’

আরও পড়ুন: Buddhadeb Dasgupta-র ছবি দেখে ফেরার পরও অনুভূতিটা থেকে যেত : Paoli Dam

‘তিনি একজন কবি ছিলেন, আর তাঁর চিত্রনাট্যের মাধ্যমে যে দৃশ্য তিনি তৈরি করতেন তা কবিতার মত হত। তিনি খুব কঠিন পরিচালক ছিলেন এবং অবশ্যই পারফেকশনিস্ট। হুইলচেয়ারে করে তিনি ‘উড়োজাহাজ’ ছবির পুুরো শুটিংটা করেছিলেন। আমি প্রায় দেড় মাস ওঁর সান্নিধ্যে ছিলাম।’ ওই শরীর খারাপের মধ্যেই তাঁর দাপট দেখেছেন চন্দন, তিনি এক কথায় অসাধারণ। পুরো ছবির শুটিং শেষে চন্দনের পাওয়া সেরা পুরস্কার বর্ষীয়ান চিত্র পরিচালক তাঁকে দিয়ে গিয়েছেন। চন্দন আরও জানান- শুটিং শেষে বুদ্ধদা বলেন, চন্দন তুমি আমার প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছ, এই ছবির জন্য তোমার পুরস্কার প্রাপ্য। আমায় তিনি শিল্পী হিসাবে ভেঙে, নতুন করে গড়েছেন বুদ্ধদা, আপনাকে বিদায়।’

 





Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.