‘শুধু হিরো নয়, বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই!’


এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: চলতি সপ্তাহেই ডিজনি প্লাস হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে অক্ষয় কুমারের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা লক্ষ্মী। প্রথমে লক্ষ্মী বোম্ব রাখা হলেও বিতর্কের মুখে পড়ে ছবির নাম পাল্টে দেওয়া হয়। সিনেমার বিষয়বস্তু সকলেরই জানা। কিন্তু অক্ষয় কুমার ও কিয়ারা আদবানী অভিনীত এই সিনেমায় দর্শকমনে সবচেয়ে ছাপ ফেলেছেন কে জানেন?গোটা সিনেমায় মাত্র ১৫ মিনিটের দৃশ্যে ক্যামিও রোলে অভিনয় করে মন জিতে নিয়েছেন টেলিভিশন অভিনেতা শরদ কেলকার। শুধু টেলিভিশনের পর্দাতেই নয়, সাম্প্রতিকালের বহু ছবিতেই তাঁকে দেখা গিয়েছে। অজয় দেবগন অভিনীত তানহাজি সিনেমায় ছত্রপতি শিবাজীর চরিত্রের অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। এছাড়া রামলীলা সিনেমায় রণবীরের দাদার চরিত্রে তাঁকে কাস্ট করে কোনও ভুল করেননি পরিচালক সঞ্জয় বনশালী, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন শরদ।

বৃহন্নলার ভূমিকায় অভিনয় করে সিনেমার সব আকর্ষণ তিনিই টেনে নিয়েছেন। বলতে গেলে সুপারস্টার অক্ষয়কে একাই দশ গোল দিয়েছেন। লক্ষ্মী-রূপী অক্ষয়ের থেকে চোখ সরে গিয়েছে তাঁর দিকে। মাসকুলার বডি, লাল রঙের শাড়ি, কপালে লাল টিপ- এই ছিল শরদের সিনেমার লুক। গোটা সিনমায় লক্ষ্মীকে নিয়ে সমালোচনা করা হলেও, নেটিজেনদের মুখেও শুধু শরদের প্রশংসার কথা ঝরে পড়েছে।

যাঁকে নিয়ে এত মাতামাতি, সে কী বললেন নিজের সম্পর্কে? তাঁর কথায়, ‘এই চরিত্রটি নিজের অভিনয় দক্ষতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু একজন বৃহন্নলার বেশে নয়, একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে আরও তৈরি করেছি। লক্ষ্মীর একটি আলাদা ইমোশনাল দিক রয়েছে। সেটা সত্যিই খুব কঠিন একটি চরিত্র। সিনেমায় আমার চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য আজকের যুগে দাঁড়িয়ে, সমাজ থেকে একজন বৃহন্নলারা যে অমানবিক যন্ত্রণা সহ্য করে, তার মানসিক দিকটি নিয়ে আমি অনুভব করার চেষ্টা করেছি। আমি তাঁদের মাঝে বসে অনেকক্ষণ ধরে কথা বলেছি। তাঁদের যন্ত্রণার গভীরে গিয়ে জীবনের কাহিনি শুনেছি। গোটা পদ্ধতিটাই আমার জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার।’

লক্ষ্মী এমন একটি চরিত্র, যার মাধ্যমে নিজের পারফর্ম্যান্সকে আরও উঁচুস্তরে পৌঁছে দিয়েছে শরদকে। কিন্তু বলিউডে কখনও কি হিরোর চরিত্রে দেখা যাবে না তাঁকে? কোনও কিছু না ভেবেই শরদের উত্তর, ‘হিরোর চরিত্রে অভিনয় করাা কিছুটি বোরিং। আমি টিভিতে বেশকয়েকটি হিরোর ভূমিকায় কাজ করেছি। তাই আমি এমনভাবে নিজেকে তৈরি করতে চাই না। আমি চাই শিল্পী হিসেবে আরও অনেক কিছু শিখতে। আমার ক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে আমার বেস্টটা দিতে। আমার জন্য এটাই গুরুত্বপূর্ম যে আমি কোন চরিত্রে অভিনয় করছি আর সেই চরিত্রটি কি দাবি করছে। যদি ভাগ্য সহায় থাকে, তাহলে একটা সময় হিরোর চরিত্রে অভিনয় করতেও রাজি।’

বাস্তবের মাটিতে পা ফেলা অভিনেতা শরদ কেলকার। তাঁর কথায়, ‘২৪ বছর পড়তে না পড়তেই আমি ফিল্মজগতে প্রবেশ করি। তার মধ্যে টিভিতে প্রচুর কাজ করেছি। তাই লোকজন জানেন যে আমি কাজ করতে চাই। আর তা পুরি সিদ্দাত সে কাম করনা চাহতা হুঁ। আর এই জন্যই আমি অনেক সুযোগও পেয়েছি। আমি কখনও অভিনয় শেখার জন্য় ট্রেনিং নিইনি। ম্যায় তো জুনুন কা অ্যাক্টর হুঁ। আমি সবসময় নিজের প্যাশনে কাজ করে গিয়েছে। নিজের কাজকে আরও সমৃদ্ধ করা চেষ্টা করেছি। আর যখন অভিনয়রে কথা আসছে, তখন বলব আমি একজন চোর। অন্যান্য শিল্পী, অভিনেতাদের মহান টেকনিকগুলোকে দেখি। আমি তাঁদের সেই অভিনয় চুরি করি এবং সেই দক্ষতা দেখে নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করি। নিজের মতো করে সেই অভিনয়কে পরিচালিত করি।’

আসন্ন সিনেমা ভুজ দ্য় প্রাইড অফ ইন্ডিয়া সিনেমার চূড়ান্ত পর্যায়ের শ্যুটিংয়ের কাজ চলছে। সেই শ্যুটিংয়ের জন্য ব্যস্ত রয়েছেন তিনিও। এছাড়া মরাঠি সিনেমা ও কিছু ওয়েব সিরিজের কাজ হাতে রয়েছে তাঁর।

এই সময় ডিজিটালের বিনোদন সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে-



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.