সৌমিত্রের মতো সব বিষয়ে এত ভালো বক্তা আমি তো আর কাউকে চিনি না: শর্মিলা ঠাকুর


হাইলাইটস

  • থিয়েটার, সিনেমা, কবিতা, ছবি আঁকা ও গানের সঙ্গে প্রায় সাত দশক ধরে ছিল তাঁর যোগ।
  • সত্যজিতের ১৪টি সিনেমার নায়ক ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
  • তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ভাগ করলেন নিজের মনের কথা।

এই সময় বিনোদন ডেস্ক: সত্যজিতের ১৪টি সিনেমার নায়ক ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। থিয়েটার, সিনেমা, কবিতা, ছবি আঁকা ও গানের সঙ্গে প্রায় সাত দশক ধরে ছিল তাঁর যোগ। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ শিল্প সম্মান Ordre des Arts et des Lettres-এ ভূষিত ভারতীয় একমাত্র অভিনেতা ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। রবিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২০ সব ছেড়ে পাড়ি দিলেন এক অজানা জগতে। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ভাগ করলেন নিজের মনের কথা।

১৯৫৯ সালে ‘অপুর সংসার’ সত্যজিৎ রায়ের ছবিতেই প্রথম অভিনয় জগতে পা দিয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। সেই ছবিতে তাঁর সঙ্গে অপুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এতটা পড়াশোনা, এতটা জ্ঞানী একজন সহকর্মীকে নিয়ে স্মৃতির পাতা উলটে শর্মিলা বলেছেন, ‘আমরা অনেক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করিনি ঠিকই, কিন্তু আমাদের মধ্যে দারুণ একটা সম্পর্ক ছিল। আমরা অপুর সংসার দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করি। এটা ওঁর ও আমার প্রথম ছবি। ও আমার থেকে ঠিক দশ বছরের বড়। ও সব সময়ই একজন অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন, আর আমি দুর্ঘটনাবশত অভিনেত্রী। ও তখন ২৩ আর আমি ১৩। ওঁর কাজ একেবারে অতুলনীয়।’

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে পুরনো অনেক কথাই মনে পড়ে যাচ্ছে শর্মিলার। তিনি বলছেন, ‘সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে অনেকগুলি ছবি করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি তপন সিনহা, অজয় কর, মৃণাল সেন, অসিত সেনের সঙ্গেও অনেক কাজ করেছেন। আমি কয়েকদিন আগেই বর্ণালি দেখছিলাম। দেখতে দেখতে সেই সময়ে ফিরে গিয়েছিলাম। সৌমিত্র সাদা-কালো সিনেমাও করেছেন। শুধু সিনেমায় অভিনয় নয়, থিয়েটারের পরিচালনা, অভিনয়, আবৃত্তি। ওঁর গলায় কবিতাগুলো শুনতে দারুণ লাগে। ও গান গাইতে জানতেন, ও ছবি আঁকতে পারতেন। শেষ দিকে অনেক ছবি আঁকছিলেন তিনি। এমন কোনও বিষয় নেই যেটা উনি জানতেন না। রাজনীতি, খেলাধূলা, সাহিত্য– অনেক পড়েছেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রির অপূরণীয় ক্ষতি ওঁর চলে যাওয়া। এত জানা এমন লোক আমি আর দেখিনি।…’

‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা মনে পড়ছে শর্মিলার। তিনি বলেছেন, ‘হাতের লেখা ছাড়া সব কিছু নিয়ে কাজ করতেন সৌমিত্র। মন ভোলানো হাসি আর আড্ডা। জঙ্গলে শ্যুটিংয়ের সময় একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর আমরা আর শ্যুটিং করতে পারতাম না। কী সুন্দর একটা আউটডোর ছিল ওটা। শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র খেলা, থিয়েটার নিয়ে আড্ডা মারতেন। একজন থামলেই আরেকজনের বলা শুরু। ইশ, যদি সেগুলো রেকর্ড করে রাখতাম। কত বিষয় নিয়ে ওঁরা কথা বলতেন। সৌমিত্রের সান্নিধ্যে আসা কৃতজ্ঞতার।’

আরও পড়ুন: ‘কোনওদিন দাদা বলিনি, বলতাম সিনিয়র’, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় মুনমুন ও রাইমা

এই সময় ডিজিটালের বিনোদন সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.