অগাস্টে সামান্য কমল মূল্যবৃদ্ধি

0 3


হাইলাইটস

  • কোভিড-লকডাউনের কারণে গত বছর জুলাই মাসে ওই মূল্যবৃদ্ধির হার ৬.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছিল।
  • পণ্য-পরিষেবার জোগানে বিঘ্ন ঘটে এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার মে মাসে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছে যায়।
  • মূলত খাদ্যপণ্যের দাম কমার উপর নির্ভর করেই গত দু’মাস ধরে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির হার কমছে।

এই সময়: খাদ্যপণ্যের দাম খানিকটা কমায় অগাস্ট মাসে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পণ্য-পরিষেবায় মূল্যবৃদ্ধির হার জুলাই মাসের তুলনায় কিছুটা কমলো। জুলাই মাসে ওই হার ছিল ৫.৫৯%। অগাস্ট মাসে সেটা কমে হয়েছে ৫.৩%।

এপ্রিল মাসে কোভিডের অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর ওই সংক্রমণ মোকাবিলায় বিভিন্ন রাজ্য স্থানীয় ভাবে দোকান-বাজার-হাট ও অফিস-কাছারি খোলা, যানচলাচল প্রভৃতির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তার ফলে, পণ্য-পরিষেবার জোগানে বিঘ্ন ঘটে এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার মে মাসে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছে যায়। বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া শুরু হতেই বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং দাম কমতে থাকে। উল্লেখ্য, কোভিড-লকডাউনের কারণে গত বছর জুলাই মাসে ওই মূল্যবৃদ্ধির হার ৬.৯৩ শতাংশে পৌঁছেছিল।

মূলত খাদ্যপণ্যের দাম কমার উপর নির্ভর করেই গত দু’মাস ধরে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির হার কমছে। সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পণ্য-পরিষেবার সার্বিক মূল্যসূচকে খাদ্যপণ্যের অংশানুপাত প্রায় ৫০%। ফলে, এই মূল্যসূচকের বৃদ্ধিতে সার্বিক মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত ছবিটা ধরা পড়ে না। অর্থনীতিবিদ সুজন হাজরার মতে, ‘বেশিরভাগ গৃহস্থ পরিবার, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, তাঁদের আয়ের অতোটা (৫০%) খাদ্যপণ্যে খরচ করেন না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ প্রভৃতি খাতে তাঁরা অনেক বেশি খরচ করেন এবং ওই সমস্ত পরিষেবায় মূল্যবৃদ্ধির হার অনেক বেশি।’

LIC-তে রোজ মাত্র 29 টাকা, মেয়াদ শেষে হাতে আসবে ₹4 লাখ!
সোমবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে খাদ্যপণ্যের দাম গত বছর অগাস্ট মাসের তুলনায় ৩.১১% কমেছে।

কিন্তু তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পণ্য-পরিষেবায় মূল্যবৃদ্ধির হার এত চড়া কেন?

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতে, এর জন্য দায়ী ভোজ্য এবং জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম।

অগাস্ট মাসে ঋণনীতি ঘোষণা করার সময় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর শক্তিকান্ত দাস জানিয়েছিলেন, মে-জুন মাসে একদিকে যেমন ভোজ্যতেল, ডাল, ডিম, দুধের দাম অনেকটা বেড়েছিল, তেমনি রান্নার গ্যাস, কেরোসিন এবং পেট্রল-ডিজেলের দামেও বিস্তর মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে সেই সময় শক্তিকান্ত নিদান দিয়েছিলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি যাতে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে পেট্রল-ডিজেলে কর-শুল্ক ধাপে ধাপে কমায়।

কিন্তু, সেই থেকে না ভোজ্যতেল, না জ্বালানির (পেট্রল-ডিজেল-রান্নার গ্যাস) দাম কমেছে। পুরো ২০২১-২২ অর্থবছরে গড় মূল্যবৃদ্ধির অনুমান রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাড়িয়ে ৫.৭% করেছে। আরবিআইয়ের অনুমান, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে গড় মূল্যবৃদ্ধির হার হবে ৫.৯% এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্বে সেটা কিছুটা কমে ৫.৩% হবে। তবে, আগামী বছর জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে ফের ৫.৮% হতে পারে বলেও আরবিআই মনে করে।

চিনা ভিটামিন সি-র উপর অতিরিক্ত শুল্ক, কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রস্তাবে সায় নমোর?
সাধারণ মানুষের আরও বড় সমস্যা হল, বাজারে জিনিসপত্রের দাম যেখানে বছরে ৫ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে সেখানে ব্যাঙ্কে এক বছরের মেয়াদি আমানতে টাকা রাখলে সুদ মিলছে ৪% থেকে ৪.৫% মাত্র! এ দিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়ে দিয়েছে, অর্থনীতি সেরে না ওঠা অবধি তারা সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটবে না। ফলে অঙ্কের বিচারে অন্তত আমজনতার পকেটে ছেঁকা আপাতত অব্যাহত থাকবে আরও বেশ কয়েক মাস।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.