বাড়ি বসে কাজের দিন শেষ? অফিসে ডাকছে TCS, Wipro-র মতো অনেকেই

0 3


হাইলাইটস

  • কর্মচারীদের অফিসে ডাকছে বিভিন্ন কোম্পানি।
  • তালিকায় উইপ্রো, ইনফোসিস থেকে টিসিএস।
  • কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা কমতেই সিদ্ধান্ত।

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক : করোনা মহামারী এখনও বিশ্বজুড়ে বিরাজ করছে , তবে দেশে এবং বিশ্বে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই মহামারী সময়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ করার যে ধারণা উদয় হয়েছে তা আমাদের এই নতুন জীবনে সেটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।কিন্তু এখন, সেপ্টেম্বরে, যখন ভারত রেকর্ড টিকা প্রদান করছে এবং যখন জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে টিকা দেওয়া হয়েছে,তখন বড় বড় সংস্থাগুলি তাদের কর্মীদের অফিসে ফিরে আসতে বলছে এবং হয় তো বা হাইব্রিড স্টাইলে কাজ করার কথা বলা হচ্ছে, যেখানে কেউ বাড়ি থেকে ২-৩ দিন এবং অফিস থেকে পরের ২-৩দিন কাজ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব বড় বড় কর্পোরেট সংস্থা কর্মীদের অফিস থেকে কাজ শুরু করতে বলছে তাদের তালিকায় রয়েছে – টিসিএস, উইপ্রো, অ্যাপল ইত্যাদি।

উইপ্রো

উইপ্রোর কর্তা রিশাদ প্রেমজি রবিবার জানিয়েছিলেন , কোভিড -১৯ মহামারীর মধ্যে ১৮ মাস বাড়ি থেকে কাজ করার পর সোমবার থেকে
সংস্থায় যারা নেতৃত্বে রয়েছেন তারা অফিসে ফিরতে শুরু করবেন।প্রেমজি একটি টুইটে বলেছিলেন,“দীর্ঘ ১৮ মাস পর, আমাদের উইপ্রোতে
যারা নেতৃত্বে রয়েছেন তারা আগামীকাল থেকে (সপ্তাহে দুদিন করে) অফিসে ফিরে আসছেন। সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ হয়েছে, সকলে যেতে
প্রস্তুত – নিরাপদে এবং সামাজিকভাবে দূরত্ব বজায় রেখে ৷” তিনি কোভিড -১৯ সম্পর্কিত সুরক্ষা প্রোটোকল সম্পর্কে একটি ভিডিও শেয়ার
করেছেন, যার মধ্যে তাপমাত্রা পরীক্ষা এবং কিউআর কোড স্ক্যান রয়েছে- যা উইপ্রো অফিসে স্থাপন করা হয়েছে। ১৪ জুলাই কোম্পানির ৭৫
তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রেমজি বলেছিলেন, ভারতে তাদের প্রায় ৫৫ শতাংশ কর্মীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। উইপ্রোর বর্তমানে প্রায় দুই লাখ
কর্মচারী রয়েছে।

টাটা কনসাল্ট্যান্সি সার্ভিসেস

ভারতের সফটওয়্যার জায়ান্ট ৮০ শতাংশেরও বেশি কর্মচারীকে অফিস থেকে কাজ শুরু করার জন্য ডাকার পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি
বলেছে , তার প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী টিকা নিয়েছে। এমনকি টিসিএসের সিইও, কোম্পানির সর্বোচ্চ কর্মীবাহিনীকে কাজের জন্য অফিসে
ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা সম্পর্কে যথেষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।রাজেশ বলেন, “কোভিড -১৯এর তৃতীয় ঢেউয়ের উপর নির্ভর করে, ২০২১ সালের
শেষের দিকে বা পরের বছরের শুরুতে, আমরা আমাদের ৮০ শতাংশ কর্মীদের অফিসে ফিরে পাব।”যে সিংহ ভাগ কর্মীবাহিনীকে অফিসে
ডাকা হবে তাদের অধিকাংশকেই পুরোপুরি টিকা দেওয়া হবে। টিসিএস অন্যান্য শীর্ষ আইটি সংস্থাগুলির জন্য একটি নতুন কোর্স স্থাপন করতে
পারে যাতে কর্মীদের আবার অফিসে ডাকা হয়।কোম্পানিটি ভারতের ৪.৬ মিলিয়ন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ১০শতাংশেরও বেশি। টিসিএস
পরিকল্পনা করেছে তার কর্মীবাহিনীর ৮০-৯০ শতাংশ অফিস থেকে কাজ করানোর।


ইনফোসিস

টিসিএস-এর পরে, আরেকটি সফটওয়্যার কোম্পানি যেটি প্রাক-মহামারী প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে চলেছে তা হল ইনফোসিস। এই সংস্থাটি তার
অফিসগুলি পুনরায় খোলার এবং কর্মীদের কেবলমাত্র অফিস ফিরিয়ে এনে সেখান থেকেই কাজে করানোর পরিকল্পনা করছে। মহামারীটির
তৃতীয় ঢেউয়ের হুমকি কথা মাথায় রেখে সংস্থাটি ২.৬ লক্ষ কর্মচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই কর্মীদের অফিসে ডাকার পরিকল্পনা
করছে।মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরে, সংখ্যাগুলি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত এবং সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পরের ঢেউ
অনিবার্য তাই নিরাপত্তা শিথিল করা উচিত নয়৷ সংস্থাটি বলেছে, “আমরা নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে তাদের দলের সদস্যদের ইনফোসিস
ক্যাম্পাস থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ পেয়েছি। এছাড়াও, আমাদের কিছু কর্মচারী ব্যক্তিগত পছন্দে ফিরে এসে অফিস
থেকে কাজ শুরু করার কথা বলেছে। “

এইচসিএল টেক

প্রধান আইটি পরিষেবা সংস্থা এইচসিএল টেক তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতোই একই পথে হাঁটছে, এইচসিএল টেকনোলজিসের চিফ হিউম্যান
রিসোর্স অফিসার (সিএইচআরও) আপ্পারাও ভিভি সম্প্রতি জানিয়েছেন, বর্তমানে, ভারতে প্রায় ৩ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে আসছেন, অন্যরা
বাড়ি থেকেই কাজ চালাচ্ছেন ৷ তাছাড়া, তিনি আরও জানিয়েছে , এইচসিএল চলতি ত্রৈমাসিকে তার কর্মীদের ১০০ শতাংশ টিকা দেওয়ার আশা
করছে। বর্তমানে, এর প্রায় ৭৪% কর্মচারীদের টিকা দেওয়া হয়েছে।মোটের উপর, কর্মচারীর হিসাব এবং ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে,
এইচসিএল টেক জানিয়েছে যে ২০২১ সালের জুন ত্রৈমাসিকের শেষে কোম্পানির ১,৭৬,৪৯৯ জন কর্মচারী ছিল। ওই সময় আপ্পারাও ভি ভি
জানিয়েছিলেন, যে গত বছর, সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে ১৪,৬০০জন নতুন লোক নিয়োগ করেছিল।

নাগারো

আরেকটি সংস্থার নাম হল নাগারো (আইটি এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম), সেখানেও কর্মীদের জন্য অফিস খুলছে ৷ সংস্থাটি কিছু
দিন আগেই ঘোষণা করেছিল , তার কর্মীদের জন্য গুড়গাঁও অফিস পুনরায় খুলে দিয়েছে। কোম্পানি তার লিঙ্কডিন পোস্টে উল্লেখ
করেছে,‘‘১৮ মাস বাড়ি থেকে কাজ করার পর, আমরা অবশেষে এমন কিছু বলতে পারি যার জন্য অনেক নাগারীয়ান দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা
করছিলেন! হ্যাঁ, আমরা ভারতের গুরগাঁওয়ে নাগারো অফিস পুনরায় খুলছি। অবশ্যই, সমস্ত কোভিড প্রোটোকলের বজায় থাকবে সেখানে। ’’

ন্যাসকম

নাসকম, একটি ভারতীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থার সংগঠন এবং পরমর্শদাতা গোষ্ঠী সফটওয়্যার জায়ান্টদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে
হাইব্রিড কাজের মডেল গ্রহণ করেছে এবং ১.৫ বছরের ব্যবধানে দূর থেকে কাজের পরে কর্মচারীদের ফিরে যাওয়ার জন্য তার অফিস খুলেছে।
সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, এখানে কিছু কঠোর কোভিড প্রোটোকল বজায় থাকছে এবং অফিসে মাত্র ৩০ শতাংশেরও কম আসার অনুমতি
দেবে।এর বাইরে, কন্টাক্টলেস সলিউশন, উপযুক্ত ভেন্টলেশন, সামাজিক দূরত্বের নিয়ম বজায় রাখা এবং ভ্যাকসিনেশন করা ইত্যাদি ব্যবস্থা
নেওয়া হচ্ছে যাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ন্যূনতম করা যায়৷

নিউটাউনে শীঘ্রই কাজ শুরু ইনফোসিসের

অ্যাপল

ন্যাসকম এবং নাগরোর মতো, টেক-জায়ান্ট অ্যাপলও এই মাস থেকে হাইব্রিড স্টাইলে কর্মচারীদের জন্য তার অফিস খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তার কর্মীদের অফিসে এসে তিন দিন কাজ করতে হবে। অ্যাপলের সিইও টিম কুক ইতিমধ্যেই ২০২১ সালের জুন মাসে
এমন মডেলের প্রস্তাব দিয়েছিলেন৷

Read More
: Wipro: কর্মী নিয়োগ করতে ট্যালেন্ট হান্ট! আজই করুন আবেদন



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.