অবশেষে খুনির নাম সরানো হলো | কালের কণ্ঠ

0 3


আব্রাহাম লিংকন এবং প্রধান বিচারপতি জন মার্শালের দেশে খুনির নামে কোনো সড়কের নামকরণ হতে পারে না, আর সে যদি ঠাণ্ডা মাথার খুনি হয়, তবে তো কোনো কথাই নেই। এ ধরনের দাবির মুখেই যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ বলে যে সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল, অবশেষে সে নামটি মুছে ফেলা হয়েছে গত ১০ সেপ্টেম্বর। বাল্টিমোরের মেয়র ব্রেন্ডন স্কট সাহেবকে অবশ্য এ কথাটি বোঝানো খুব সহজ ছিল না, এর জন্য প্রচুর গবেষণা করতে হয়েছে, কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে।

গত জুন মাসে বিএনপির নেতারা প্রচুর টাকা খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করে বাল্টিমোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে জিয়ার নামে একটি সড়কের নামকরণের জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের সেই প্রচেষ্টা সাময়িকভাবে সফল হয় এবং বাল্টিমোরের মেয়র সাহেবের দপ্তর একটি সড়কের নামকরণ করে জিয়াউর রহমান ওয়ে নামে। এ সংবাদে উল্লসিত হয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে, বরং নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার কাজটি করে ফেলে। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দৃষ্টি কাড়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতাদের, যার ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ সজাগ হয়ে যান এবং সেই রাস্তার নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে কর্মপন্থা চিন্তা করতে থাকেন। সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাতও এ ব্যাপারে গবেষণারত হন। এ উদ্দেশ্যে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ এবং আলোচনা করেন।

মাসখানেক আগে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ড. সেলিম মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের আইন উপকমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কুমার দেবল আমার বাসায় উপস্থিত হন সড়কটি থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার জন্য কর্মপদ্ধতি এবং কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য। সিদ্ধান্ত হয় যে আমরা যদি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের জিয়ার বিরুদ্ধে লেখা রায়গুলো সন্নিবিষ্ট করে বাল্টিমোরের মেয়রের কাছে পাঠাতে পারি, তাহলে মেয়র সাহেব জিয়া সম্পর্কে সব জেনে তাঁর নামে করা সড়কটির নাম পরিবর্তন করবেন। আমরা ধরে নিয়েছিলাম মেয়র সাহেব জিয়ার আসল রূপ সম্পর্কে অবগত নন এবং তাঁকে লবিস্টরা ভুল তথ্য দিয়েছিলেন বলেই মেয়র সাহেব জিয়ার নামে রাস্তাটির নাম রেখেছেন জিয়াউর রহমান ওয়ে। এ সিদ্ধান্তের পর আমি শুরু করি হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায়গুলো ঘাঁটা, যাতে জিয়াউর রহমানকে নিন্দা করে বহু কিছু লেখা হয়, আর এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেন ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং আইনের অধ্যাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. সেলিম মাহমুদ। পুরনো রায়গুলো খুঁজে পেতে সময় এবং ধৈর্য লেগেছিল বটে, কিন্তু খুঁজে পাওয়ার পর যে সফলতা পেয়েছি তা আমাদের সব শ্রমকে পুরস্কৃত করেছে। পুরনো রায় খুঁজে বের করতে সাহায্য করেছিলেন অ্যাডভোকেট কুমার দেবল। প্রথমেই যে রায়টির কথা মনে হলো সেটি ছিল আমার নিজের বেঞ্চের রায়, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন গং বনাম বাংলাদেশ মামলায়, যা তাহের হত্যা মামলা নামে পরিচিত। সেই মামলার রায়ে আমরা লিখেছিলাম ‘জিয়া একজন ঠাণ্ডা মাথার খুনি’। আমরা আরো লিখেছিলাম যে প্রহসনের বিচার সাজিয়ে জিয়া সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে বস্তুত হত্যা করেছেন। এই রায়টি আমাদের প্রচেষ্টায় বেশ ফলপ্রসূ হবে বলে ধরে নিয়ে বাল্টিমোরের মেয়র সাহেবের কাছে পাঠানো চিঠিতে আমরা সেই রায়ের কথাগুলোই প্রথমে উল্লেখ করে বলি, যে ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালত একজন ঠাণ্ডা মাথার খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তাঁর নামে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সড়ক হতে পারে না। তাহের মামলার আরো কিছু উপাদানও আমরা ব্যবহার করি, যথা ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেবের পুস্তক, ‘চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট’ যে পুস্তকে ব্যারিস্টার মওদুদ লিখেছেন যে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়ার যোগসাজশ ছিল। তদুপরি সেই মামলায় সাক্ষ্য প্রদানকালে মার্কিন নাগরিক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক লরেন্স লিফসুলজ জিয়াকে ঠাণ্ডা মাথার খুনি বলে যে উক্তি করেছিলেন তা-ও মেয়র সাহেবকে জানাই। শুধু তাহের মামলাই নয়, আমরা পঞ্চম এবং সপ্তম সংশোধনী মামলার রায়গুলোতে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে জিয়া গংদের কঠোর সমালোচনার যে কথাগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে, সে কথাগুলোও মেয়র সাহেবকে জানাই। এই মামলাগুলোর রায়ে হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগ যে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো জিয়া গংদের বিরুদ্ধে বলেছেন সংক্ষেপে তা নিম্নরূপ :

‘জিয়া, মোশতাক এবং বিচারপতি সায়েম সংবিধানকে লঙ্ঘন করে, সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে হত্যা করে, আগ্নেয়াস্ত্রের জোরে, অবৈধ এবং অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রের ক্ষমতা জবরদখল করে মূলত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন, যার জন্য তাঁদের সাজা হওয়া উচিত এবং যার জন্য তাঁরা সব সময় গণধিক্কার পাওয়ার যোগ্য, তাঁরা কেউ রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতায় ছিলেন না বিধায় তাঁদের ক্ষমতা দখল ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অসাংবিধানিক এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাঁরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বন্দুকের জোরে দখল করে শপথ ভঙ্গ করায় তাঁরা শপথ ভঙ্গেরও অপরাধী। তাঁরা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে কাজ করতে না দেওয়ায় গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তাঁরা খুব ভালো করেই জানতেন যে আইন অনুযায়ী তাঁরা রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য ছিলেন না, তথাপিও সে পদ দখল করে তাঁরা যে অপরাধ করেছেন তা ছিল অমার্জনীয় এবং ভবিষ্যতে জিয়া, মোশতাকের মতো কোনো ক্ষমতালোভী উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন অস্ত্রের জোরে, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা জবরদখল করতে না পারেন তার জন্য এঁদের বিচার হওয়া অপরিহার্য।’

পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন যে ‘জিয়া-মোশতাক গং তাঁদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিলাষ চরিতার্থ করার মানসে পবিত্র সংবিধান তছনছ করে দিয়েছেন। যদিও সামরিক শাসন নামের কোনো তত্ত্ব আমাদের সংবিধানে বা আইনে নেই, তথাপিও সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিকভাবে জিয়া গং দেশে অবৈধ সামরিক শাসন চালিয়ে সংবিধানকে অবমাননা করেছেন। জিয়া গং তাঁদের নিজেদের শপথের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কেননা সামরিক বাহিনীতে চাকরি গ্রহণকালে শপথ নিয়েছিলেন যে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তিনি সংবিধান রক্ষা করবেন, অথচ তিনি নিজেই সেই সংবিধানকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছেন। তাঁর কার্যকলাপ নিশ্চয়ই সংবিধান ও আইন ভঙ্গের শামিল। জিয়া আইনের শাসনকে শেষ করে দিয়েছিলেন। সামরিক শাসন জারি করাটাই ছিল কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার জন্য জিয়া গং অপরাধী। জিয়া সংবিধানের মৌলিক মূল স্তম্ভগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। জিয়া পঞ্চম সংশোধনী আইন পাস করে মূলত জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। জিয়ার সামরিক শাসনকালে দেশে যত সামরিক ফরমান, অধ্যাদেশ, রেগুলেশন জারি করা হয়েছে, তার সবই অবৈধ, অগ্রহণযোগ্য এবং ধিক্কারযোগ্য। জিয়া তাঁর সামরিক ফরমান দ্বারা দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারসমূহ হরণ করেছেন। জিয়া গংদের কোনো আইনি অধিকার ছিল না দেশের রাষ্ট্রপতির পদ দখল করার।’ জিয়া প্রদত্ত রেফারেন্ডাম ভোটকে জাতির সঙ্গে প্রতারণার নামান্তর বলে হাইকোর্ট বিভাগ উল্লেখ করেছেন। কারণ এ ধরনের কোনো নির্বাচনের বিধান আমাদের সংবিধানে বা কোনো আইনে নেই। জিয়া রাষ্ট্রপতির পদ দখলের আগে প্রধান সেনাপতি ছিলেন বলে তিনি তাঁর শপথ দ্বারা বাধ্য ছিলেন রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের, যা তিনি ভঙ্গ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেই রাষ্ট্রপতি পদ দখল করেছেন। আপিল বিভাগ জিয়া গংদের নাম উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁরা রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ যেসব অপরাধ করেছেন, তার সাজা অবশ্যই হতে হবে। আমরা মেয়র সাহেবকে আরো জানিয়েছি যে জাতির পিতাকে হত্যার পর লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল, যার সদস্য ছিলেন আইরিশ নোবেল বিজয়ী শোন ম্যাক ব্রাইট, ব্যারিস্টার থমাস উইলিয়ামস, কিউসি এমপি, ব্যারিস্টার জেফরি থমাস কিউসি। কিন্তু জিয়া সেই কমিশনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেননি বলে কমিশনের সদস্যরা কঠোর ভাষায় জিয়ার সমালোচনা করেন। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ এবং খুনিদের বাইরে যেতে দেওয়া এবং তাঁদের বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে পদায়নকে সমালোচনা করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য থেকে যে কথাগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হলো এই যে বঙ্গবন্ধু হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে জিয়া দুজন সাজাপ্রাপ্ত খুনি, যথা মেজর ডালিম এবং মেজর নুরের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর টেনিস লনে একত্রে সময় কাটিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অতি প্রত্যুষে যেখানে অন্য সেনা কর্মকর্তারা ছিলেন রাত্রিকালীন পোশাকে, সেখানে জিয়া ছিলেন শেভ করা, ফিটফাট, সামরিক পোশাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর তাঁকে বলা হলে তার উত্তর ছিল, ‘প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়েছে, তাতে কী হয়েছে?’ সাক্ষীদের থেকে আরো জানা গেছে হত্যাকাণ্ডের দিন বঙ্গভবনের পুরো কর্তৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান, যা খুনে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ, তদুপরি যেসব সাজাপ্রাপ্ত খুনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তাঁরা জিয়ার সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেছেন।

মূলত জিয়াসহ ক্ষমতা জবরদখলদাররা মারা যাওয়ায় তাঁদের বিচার করা সম্ভব হয়নি, নয়তো তাঁদের বিচার এবং সব সম্ভাবনায় সর্বোচ্চ সাজা ভোগ করতে হতো বলেও আমরা মেয়র সাহেবকে জানাই।

আমরা মেয়র সাহেবকে আরো জানাই যে বঙ্গবন্ধু হত্যায় যে জিয়া প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন তা বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্য আসামি, যথা ফারুক এবং রশিদের লন্ডনে প্রদত্ত টেলিভিশন সাক্ষাৎকার থেকেই স্পষ্ট, যে সাক্ষাৎকারে ওই খুনিদ্বয় পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলেন যে তাঁরা বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনা জিয়াকে জানালে জিয়া তাতে অনুমোদন প্রদান করেন। অথচ জিয়ার তখন উচিত ছিল এঁদের আইন প্রয়োগকারীদের হাতে সোপর্দ করা। খুনি ফারুক ১৯৭৬ সালের ৩০ মে তারিখে লন্ডনের বহুল পঠিত ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকায় এক পূর্ণ পৃষ্ঠা প্রবন্ধেও লিখেছিলেন যে জিয়াও বঙ্গবন্ধু হত্যায় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় যেসব সাক্ষ্য এসেছে তা নিশ্ছিদ্রভাবে প্রমাণ করে যে জিয়া জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। খুনিদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জিয়া-মোশতাক প্রণীত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ এবং আইন প্রণয়ন করে এবং প্রত্যক্ষ খুনিদের পদোন্নতি দিয়ে এবং বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে উঁচু পদে পদায়ন করে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেছেন যে তিনিও জাতির পিতা হত্যার অংশীদার। ক্যাপ্টেন মাজেদ নামের বহু বছর পালিয়ে থাকা যে খুনিকে বছরখানেক আগে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল, তিনিও তাঁর ফাঁসি-পূর্ববর্তী বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্ট করে একাধিকবার বলেছেন যে জিয়াই ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল চাবিকাঠি এবং নীলনকশাকারী। জিয়া যে বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল ভূমিকায় ছিলেন তার পক্ষে সাক্ষ্য এত জোরালো যে তিনি বেঁচে থাকলে অন্য খুনিদের মতো তাঁরও সাজা হতো। বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে পর্দার আড়ালে কারা কুশীলব ছিলেন তা প্রমাণের জন্য কমিশন গঠন করার দাবি উঠেছে দেশব্যাপী।

আইনজ্ঞ হিসেবে আমরা জানতাম যে আমাদের মুখের কথায় মেয়র সাহেব চলবেন না, যদি না আমরা আমাদের দাবিগুলোর সমর্থনে দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করি। সে উদ্দেশ্যে আমরা হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপিগুলোও আমাদের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করে দিই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গদলগুলোর সদস্যরাও প্রায় ৫০০ স্বাক্ষরসংবলিত একটি প্রতিবাদপত্র বাল্টিমোরের মেয়রের কাছে প্রেরণ করেন। মেয়র সাহেব আমাদের পাঠানো চিঠি, প্রামাণ্য দলিলগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ পাঠানো প্রতিবাদপত্র গভীর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন এবং তাঁদের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় একটি জুম সভায় আমাদের আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ থেকে আমি এবং সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত ওই জুম সভায় যোগ দিয়ে আমাদের যুক্তিগুলো ব্যাখ্যা করি। ওই জুম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ থেকে সংযুক্ত হয়েছিলেন সর্বজনাব শামিম চৌধুরী, প্রদীপ রঞ্জন কর, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলি সিদ্দিকী, মঞ্জুর চৌধুরী, শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, এম এ করিম জাহাঙ্গীর, জালালউদ্দিন জলিল, টি মোল্লা এবং শহিদুল ইসলাম। মেয়রের পক্ষে ছিলেন ক্যাটলিনা রুদ্রিগেজ এবং ডেভিড লিয়াম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের গণচলাচল বিভাগের এক কর্মকর্তা। আমাদের যুক্তিতর্ক শোনার পর মেয়রের প্রতিনিধিরা এই মর্মে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে সড়কটি জিয়ার নামে হতে পারে না এবং এটি থেকে অনতিবিলম্বে জিয়ার নামের নেইম প্লেটও অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মহৎ কাজটি সম্ভব হয়েছিল যৌথভাবে মিলিত প্রচেষ্টায়। গবেষণা ও শ্রমের কারণে এবং যাঁরা এই কাজটি সম্ভব করেছিলেন তাঁরা সবাই প্রশংসার দাবিদার। এঁদের মধ্যে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ড. সেলিম মাহমুদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত এবং অ্যাডভোকেট কুমার দেবলের অবদান ছিল অপরিহার্য। এটি একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক শক্তির জয়, ন্যায়পরায়ণতা এবং সত্যের জয়, অন্যদিকে এটি প্রমাণ বহন করছে একটি সত্যনিষ্ঠ গৌরবের কাজে সম্মিলিত প্রচেষ্টা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। শুরুতেই মেয়র সাহেব তথ্য-প্রমাণ চেয়ে বসেন, যার কারণে আইন বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণায় দক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে এবং রায়ের কপিসহ মেয়র সাহেবকে চিঠি পাঠানোর কোনো বিকল্প ছিল না। বেশ কিছু সময় আগে শিকাগোতেও জিয়ার নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়। কিন্তু বাল্টিমোরে যে ধরনের বিশেষজ্ঞ সংবলিত সম্মিলিত প্রয়াস চালানো হয়েছে, শিকাগোতে সম্ভবত সে ধরনের প্রতিবাদের অভাবে সেটিকে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়নি।

লেখক : আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি





Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.