এক দফা আন্দোলনে যেতে চায় বিএনপি

0 3


বিএনপির অতীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নতুনভাবে পথচলার পরামর্শ দিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। তারা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে এক দফা আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহ সম্পাদকদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, আগামী নির্বাচন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তৃতীয় বৈঠক শেষ হবে। আর আগামী শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাহী কমিটির সভা ও সংগঠনের সাথে মতবিনিময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আবারও একতরফা নির্বাচন করার কৌশল নিচ্ছে। তাই নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে আমাদেরকে সরকার পতনের আন্দোলনে যেতে হবে।

বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, দল পুনর্গঠন, জোটের রাজনীতি, নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচিত হয় বলেও জানান এ নেতা।

জানা গেছে, ধারাবাহিক এই বৈঠক শেষ হবে বৃহস্পতিবার। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গেও বৈঠকের সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। এসব বৈঠকের মতামতের ভিত্তিতে আন্দোলনেরর কৌশল চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বেশিরভাগই আন্দোলনে যাওয়ার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। আবার অনেকে নেতা নিজ এলাকার কমিটি গঠনে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি দল ও সংগঠনের নানান অসঙ্গতি তুলে ধরেন। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন বছরের পর বছর মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সারাদেশে সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি গঠন ধীরগতিতে চলছে। এভাবে দলকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলেও জানান নেতারা।

বৈঠকে অনেক নেতা কমিটি গঠনে অনৈতিক কার্যকলাপের বিষয়েও অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

একজন যুগ্ম মহাসচিব তার বক্তব্যে বলেন, নব্বইয়ের গণভ্যুত্থান নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু ওই সময়ের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আবার ওই সময়ের আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালনকারী ছাত্রনেতা আর এখনকার ছাত্রনেতাদের পার্থক্যও অনেক। তখন ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা ভবিষ্যতে এমপি ও মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজপথে আন্দোলন করে নাই। এখনকার একজন থানা পর্যায়ের ছাত্র নেতা ও এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। গণিমতের মাল ভাগাভাগির এই আদর্শ ত্যাগ না করলে আন্দোলন সফল হবে না।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য উপস্থিত দুইজন এমপি বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান বলে বৈঠকসূত্রে জানা গেছে।

প্রায় ৯ ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সম্পাদকসহ মোট ১২০ জন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/এমজে





Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.