তালিবান সম্পর্কে বিশ্লেষকদের জুম আলোচনা: তাদের নীতির সংস্কার প্রয়োজন

0 3


তালিবানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। নীতি নয়, তাদেরকে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। সর্বোপরি দরকার নীতির সংস্কার। তা নাহলে তারা টিকতে পারবে না। রাজধানীতে ‘আফগানিস্তানে তালিবান সরকার: চ্যালেঞ্জ ও এর আঞ্চলিক প্রভাব-প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক জুম আলোচনায় বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক ও আলেম সমাজের প্রতিনিধি অংশ নেন। এই আলোচনার আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টাডি গ্রুপ অন রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স।

বক্তারা বাংলাদেশকে তালিবানের সঙ্গে ব্যাক-চ্যানেলে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, তালিবানকে বুঝতে হবে, জানতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আফগানিস্তান একটা মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠাই তালিবান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

তালিবানকে বাংলাদেশের স্বীকৃতির প্রশ্নে তিনি ভূ-রাজনীতি, রি-অ্যালাইনমেন্ট এবং জাতীয় স্বার্থ – এই তিনটি বিষয় বিবেচনার পরামর্শ দেন। ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, এই মুহূর্তে পৃথিবীতে উগ্রবাদ নিয়ে ম্যানুপুলেটেড এবং আইডোলজিকাল- দু’ধরনের আলোচনা রয়েছে। সবাই নীতির কথা বলেন, কিন্তু আদতে ক্ষমতার খেলা। আফগানিস্তান ইস্যুতে বাংলাদেশকে আরও পরিপক্বতার সঙ্গে বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দেন এই গবেষক।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মুনিরুজ্জামান

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মুনিরুজ্জামান

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মুনিরুজ্জামান বলেন, আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তালিবানের চরিত্র বদল হয়েছে, এটা ভাববার কোনো কারণ নেই। তারা নারী শিক্ষা, নারী অধিকারসহ যেসব বিষয়ে কথা বলছে তাতে মনে হয়, তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

তালিবানের ভেতরে আদর্শিক লড়াই চলছে। কার্যত তারা দ্বিধাবিভক্ত। এক, মাঠের তালিবান, যারা লড়াই করেছে দীর্ঘদিন। দুই, দোহা তালিবান। এই গ্রুপ দরকষাকষি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে । এই দুই গ্রুপের মধ্যে আদর্শিক ফারাক রয়েছে।

দেশটি এখন মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। খাদ্য সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা প্রকট। দেশ ত্যাগের জন্য আফগানরা সীমান্তে ভিড় করছে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে নতুন এক সুশীল সমাজ গড়ে উঠেছে। বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী যারা পূর্বের তালিবানের শাসন দেখেনি। আফগান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার আগে আমাদের যেসব উদ্বেগ রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। তালিবান সরকার নিয়ে ইরান, রাশিয়ার মতো অন্য রাষ্ট্রগুলোর পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় রাখার তাগিদ দেন এই বিশ্লেষক।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম বলেছেন, বর্তমান তালিবানের আচরণ নতুন বোতলে পুরান মদ কিনা সেটাই দেখার বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ তালিবানের মতাদর্শকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অনেক ঘাটতি থাকলেও তালিবানের কোনো গোষ্ঠীকে এ দেশের মানুষ স্থান দেবে না। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আফগানিস্তান তালিবানের হাতে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবো না এমনটা আমি সমর্থন করি না। আফগানিস্তান সার্কের সদস্য, তাদের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী যোগাযোগ রয়েছে। তার মতে, আশরাফ গনি সরকার দুর্নীতিতে ডুবে ছিল। যে সুযোগে তালিবান ক্ষমতার মসনদে বসতে পেরেছে।

বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন

বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন মনে করেন, আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানের পর আমাদের এখানে বড় আকারে উগ্রবাদ শেকড় গড়তে পারবে না। কারণ মানুষ উগ্রবাদে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, নিজের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে স্বীকৃতির প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও লালবাগ মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ফায়জুল্লাহ

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও লালবাগ মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ফায়জুল্লাহ

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও লালবাগ মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ফায়জুল্লাহ মনে করেন, আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা দখলের পর এ দেশের মানুষ খুশি, তবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই, মানুষ তালিবানের নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, তালিবানের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব যোজন যোজন। আমরা বিশ্বাস করি মদিনার সনদে; উগ্রবাদে নয়।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.