পরীমনিকে রিমান্ডে নেয়ার কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট নয় হাইকোর্টের বেঞ্চ

0 4



চিত্রনায়িকা পরীমনির দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করার বিষয়ে দুই বিচারকের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে দুই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কী এমন তথ্য-উপাত্ত ছিল যে কারণে বারবার পরীমনিকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। দুই ম্যাজিস্ট্রেট লিখিতভাবে তাদের জবাব রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠিয়েছেন। বুধবার এই জবাবের অংশবিশেষ আদালতে পাঠ করে শুনান বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম। এ সময় বিচারপতি বলেন, আমরা ম্যাজিস্ট্রেটের জবাবে সন্তুষ্ট নই। কারণ রিমান্ড নিয়ে হাইকোর্ট , সুপ্রিম কোর্টের যে গাইডলাইন রয়েছে এমন কী দেশের প্রচলিত আইনও তারা অনুসরণ করেননি। এ কারণেই আমরা অসন্তুষ্ট।

পরবর্তী আদেশের জন্য ২৯শে সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হলো। গত ৪ঠা আগস্ট পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দেয় র‍্যাব। মাদকদ্রব্য আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলায় তিন দফায় সাতদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনির পক্ষে জামিনের আর্জি জানানো হয়। একাধিকবার তার জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পটভূমিতে তার আইনজীবী জজ আদালতে জামিন চান। কিন্তু জজ আদালত জামিন আবেদনের সুরাহা করতে অনেক সময় নেন। এরপর আইন ও সালিশ কেন্দ্র পরীমনিকে রিমান্ডে নেয়ার বৈধতার প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল চেয়ে আবেদন জানায়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি জাহিদ সারওয়ারের বেঞ্চ থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুই বিচারককে জবাব দিতে বলা হয়।

জবাবে একজন বিচারক কেন পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন তার যুক্তি হাজির করেন। বলেন, মাদকের ভয়াবহতা কতটুকু তা আমরা জানি। এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের আত্মহত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। জবাবের এই অংশটুকু পড়ার পর বিচারপতি মোস্তফা জামান বলেন, আমরা জানতে চাইলাম কেন তিনি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর জবাব না দিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের আত্মহত্যার কথা তুলে ধরলেন। আসলে এখানে যে ত্রুটি হয়েছে তা তিনি বিশ্বাসই করেন না। হাইকোর্টকে আন্ডারমাইন করা হয়েছে। হাইকোর্ট আরও বলেন, বিচারকদ্বয় ব্যাখ্যায় বলেছেন, উপরোক্ত বিষয় সার্বিক বিবেচনায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার আদেশের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে নিতান্তই ইচ্ছাকৃত নয় সরল বিশ্বাসে ভুল।

এর আগে ১লা সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম শুনানিকালে বলেন, তৃতীয় দফায় পরীমনির রিমান্ড মঞ্জুর করে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তাদের সামনে কি এমন তথ্য ছিল যার ভিত্তিতে রিমান্ড মঞ্জুর করলেন? এগুলো কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। সেদিনই হাইকোর্টের এই বেঞ্চ থেকে বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য না হলে তাদেরকে আবার তলব করা হতে পারে। একইসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তফাকে নথিসহ আদালতে হাজির হতে বলা হয়।

ওদিকে বুধবার সকাল ১০টার পর পরীমনি আদালতে আসেন। এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এসময় পরীমনি তার জব্দ করা গাড়িসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। পরীমনি আদালতে বলেন, জমা দেয়ার মতো তার কাছে কোনো কাগজপত্র নেই। কারণ তাকে আটকের সময় সবকিছু নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর আদালত গাড়ির মালিকানা যাচাই করতে বিআরটিএ-কে নির্দেশ দেন।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.