বশেমুরবিপ্রবি’র সাবেক রুটিন ভিসির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ | কালের কণ্ঠ

0 4


গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ও বর্তমান বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে তার সাবেক গৃহপরিচারিকা যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন। যদিও দিনভর চেষ্টার পরও অভিযোগপত্র গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে তাকে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবিতে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা বেশ পুরানো। ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল স্বয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসার ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। এ ছাড়া ২০১৯ সালে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগীয় প্রধান মো. আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে ওই বিভাগের দুই ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে ওই গৃহকর্মী বলেন, আমি শাহজাহান স্যারের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতাম। কাজ করার সময় তার স্ত্রী বাসায় না থাকলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে শারীরিকভাবে আমার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন। খারাপ উদ্দেশ্য প্রকাশ করতেন এবং আর্থিক প্রলোভন দেখাতেন। আমি নানান কৌশলে তার খারাপ উদ্দেশ্য থেকে বাঁচার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বাসা খালি থাকায় কখনো কখনো তা পেরে উঠিনি। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ রকম শ্লীলতাহানীর শিকার হয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি এবং একই সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকি।

ওই অভিযোগকারী আরো বলেন, পরবর্তীতে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে ঘটনাসমূহ খুলে বলি এবং বিচার চাই। তারা আমাকে বলেন, আপনি যার কাছে বিচার চাইবেন তিনিই তো অপরাধী। পরবর্তীতে স্থায়ী ভিসি স্যার আসলে করোনার বন্ধে আমি তার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। আমি আশাবাদী আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানীর সুষ্ঠু বিচার তার কাছে পাবো।

থানায় বা আদালতে অভিযোগ না করে কিংবা মামলা না করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট কেন অভিযোগ করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই অভিযোগকারী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আদালতে গেলে অনেক টাকা লাগতে পারে। তাই আমি উপাচার্য স্যারের নিকট বিচার চাইছি।’

এদিকে, আজ বুধবার গৃহপরিচালিকা উপাচার্য বরাবর যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেননি উপাচার্য প্রফেসর ড. একিউএম মাহবুব। পরবর্তীতে অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে জমা দিতে চাইলে যৌন প্রতিরোধ সেলও অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের প্রধান মানসুরা খানম বলেন, ‘অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কেউ নন। যে কারণে অভিযোগটি বিধিসম্মত না হওয়ায় তার অভিযোগটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।’

অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়ে উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুব বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ঘটেনি এবং ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নয়। তাই তার অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়নি। কারণ এ ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার আমার নেই। এই ঘটনায় বিচারপ্রাপ্তির জন্য ভুক্তভোগীকে প্রচলিত আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ও বর্তমান বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, সাবেক উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন পদত্যাগ করার পর আমাকে ভারপ্রাপ্ত (রুটিন দায়িত্ব) উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছেন। আমাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করার জন্য এই নারীকে দিয়ে এ ধরনের মিথ্যা ও ন্যাক্কারজনক অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।





Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.