বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে চাষাবাদ | কালের কণ্ঠ

0 3


মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রায়পুর কাচারীকান্দি ১৮২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ধান ও কলাগাছ রোপণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাঠ দখলের ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে কালনিকি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নে রায়পুর কাচারীকান্দি গ্রামের ইসমাঈস সরদার ও তার স্ত্রী ময়মুননেছা ২২ শতাংশ এবং মনির সরদার ১১ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দলিল করে দেয়। বিদ্যালয়ের জমি দাতা হিসেবে মনির সরদার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি মনির সরদারকে সভাপতি থেকে বাদ দেওয়া হলে তার ভাই মো. আক্তার সরদার বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ধান ও কলাগাছ রোপণ করেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মাটি কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে আক্তার সরদার বলেন, আমার জমিতে আমি মাটি কাটতেছি। স্কুলে যদি জমি পায় নেবে। আমার ভাই দলিল দিলে তার টুকু দিতে পারে। আমাদের অন্য ভাই বোনদের জমি দলিল দিতে পারে না।

বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন বলেন, সাবেক সভাপতি মনির সরদার জমি দাতা হয়েও বিদ্যালয়ের জমি দখল করে আছে। কিছু বললেই লোক পাঠায় মারতে আবার মামলা করা হুমকি দেয়। আমি এর সঠিক বিচার ও সমাধান চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আমি আমার শিক্ষা অফিসারের কাছে গেলে তিনি ইউএনও স্যারের কাছে নিয়ে গিয়ে দরখাস্ত দিতে বললে দরখাস্ত দেই। তখন ইউএনর স্যার তহশিলদারকে দিয়ে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয় ও দলিলপত্রসহ যাবতীয় কাগজ নিয়ে স্যারের কাছে যেতে বলে।

অভিযুক্ত সাবেক সভাপতি মনির সরদার বলেন, আমি ১১ শতাংশ জমির দলিল দিয়েছি সেই দলিল ঠিকে না। তখন কেন দিয়েছিলেন ১১ শতাংশ জমির দলিল এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমি আইনে বুঝব।

অভিযুক্ত মো. আক্তার সরদার বলেন, আমার ভাই ১১ শতাংশ জমি স্কুলের নামে দলিল দিয়েছে কিন্তু সে তো অন্য ভাই বোনদের জমি দলিল দিতে পারে না। তাই আমি জমিতে মাটি কাটছি। বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে আপনি আপনি বেড়া দিয়েছেন ও মটি কাটতেছেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জায়গায় আমি মাটি কাটতেছি। স্কুল যদি জমি পায় মাইপপা নিয়ে যাক।

কালকিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন রিসিভ করেনি।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ও সহাকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি তহশিলদার পাঠিয়ে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করেছি। বিদ্যালয়ের দলিলপত্র আনতে বলেছি এবং যারা দাবি করে তাদেরও দলিলপত্র আনতে বলেছি। দেখে সিদ্ধান্ত নেব।





Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.