এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে দরপত্র টাটা, অজয় সিংয়ের

0 13


হাইলাইটস

  • এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে আর্থিক দরপত্র জমা দিয়েছে টাটা গোষ্ঠী।
  • রাষ্ট্রায়ত্ত উড়ান সংস্থাটির বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
  • টাটা গোষ্ঠী তাদের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি পৃথক শাখা সংস্থার মাধ্যমে দরপত্র জমা দিয়েছে।

এই সময়: এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে আর্থিক দরপত্র জমা দিয়েছে টাটা গোষ্ঠী এবং স্পাইসজেট প্রোমোটার অজয় সিং। ফলে, রাষ্ট্রায়ত্ত উড়ান সংস্থাটির বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কেন্দ্রীয় ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (ডিআইপিএএম) সচিব তুহিন কান্ত পাণ্ডে বলেন, ‘আমরা সিল বন্ধ খামে আর্থিক দরপত্র পেয়েছি। ন্যূনতম দর নিরপেক্ষ ভাবে নির্ধারিত হওয়ার পর এবং দরপত্র যারা জমা দিয়েছে তাদের সুরক্ষা ছাড়পত্র মেলার পর দরপত্র খোলা হবে।’ সরকারের আশা, চলতি বছরের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার বিলগ্নিকরণ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে।

টাটা গোষ্ঠী তাদের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি পৃথক শাখা সংস্থার মাধ্যমে দরপত্র জমা দিয়েছে। অন্য দিকে, অজয় সিং কয়েক জনের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে দরপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বুধবারই ছিল আর্থিক দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

KYC প্রতারণা থেকে বাঁচুন আপনি! মেনে চলুন RBI এর পরামর্শ
তিন বছর আগে ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করার প্রচেষ্টা নিয়েছিল। কিন্তু, তা ব্যর্থ হওয়ার পর গত বছর জানুয়ারিতে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ১০০% এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা এআইএসএটিএস-এর ৫০% অংশীদারিত্ব বিক্রির জন্য সরকার ইচ্ছাপত্র আহ্বান করে। প্রাথমিক দরপত্র গত ডিসেম্বরে পায় সরকার। মার্চে শেয়ার ক্রয় চুক্তির খসড়া ইস্যু করা হয়। ওই খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করতে আগ্রহী ক্রেতারা তাদের মতামত দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করে।

এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের হাতে ১৪১টির বেশি বিমান রয়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিক রুটে ভারতের বৃহত্তম অপারেটার। তবে বিপুল ঋণভার এবং সম্মিলিত ৭০,০০০ কোটি টাকা বেশি আর্থিক ক্ষতির কারণে উড়ান সংস্থাটির পরিচালন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত অর্থ বছরে এয়ার ইন্ডিয়া ৯,৭৭৯ কোটি টাকা লোকসান করেছে।

সেই কারণে লগ্নিকারীদের আকর্ষণ করতে গত অক্টোবরে সরকার নিলামের শর্তাবলিতে পরিবর্তন করে। পূর্ব-নির্ধারিত ঋণভারের বদলে সম্ভাব্য ক্রেতাদের এন্টারপ্রাইজ মূল্যের উপর দর দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। আয়কর আইনের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যায় এয়ার ইন্ডিয়া কিনতে আগ্রহী সংস্থাদের জন্য আকর্ষণীয় ঘোষণা করা হয়েছে। প্রভিডেন্ড ফান্ড ও মেডিক্যাল সুবিধা ক্ষেত্রে কর্মীদের দাবিও মেনে নিয়েছে সরকার। এর ফলে সম্ভাব্য বিবাদ দূর করা গিয়েছে বলে বক্তব্য বিশেষজ্ঞমহলের।

উপদেষ্টা সংস্থা কাপা-র দক্ষিণ এশিয়া সিইও কপিল কাউল বলেন, ‘এয়ার ইন্ডিয়ার সম্ভাবনা প্রচুর, কিন্তু, কাঠামোগত জটিলতা রয়েছে। ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বিমান পরিবহণ সম্ভাবনায় এয়ার ইন্ডিয়ায় লগ্নি অত্যন্ত উল্লেখজনক হতে পারে। তবে এয়ার ইন্ডিয়া বেসরকারিকরণ করে উল্লেখযোগ্য অর্থ পাওয়ার আশা করা সরকারের উচিত হবে না।’

বিনিয়োগে আগ্রহী? এই স্কিমগুলো জেনে নিন আজই
যদিও গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ভি. কে. সিং জানিয়েছিলেন, এয়ার ইন্ডিয়া-র ‘ভালো দর’ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কেন্দ্র। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার কেয়ার্ন এনার্জি সিইও সাইমন টমসন জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ১০৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৭,৯০০ কোটি টাকা) ফেরৎ পাওয়ার দিন কয়েকের মধ্যে প্যারিসে ভারত সরকারের মালিকানাধীন ফ্ল্যাট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এয়ার ইন্ডিয়া-র বিমান বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে সংস্থা যে মামলা করেছে, সেগুলি তুলে নেওয়া হবে।

তার পর দুই সংস্থাই নিউ ইয়র্কের আদালতে বিচারে স্থগিতাদেশ চেয়েছে। ফলে, এয়ার ইন্ডিয়া-র বিমান হারানোর যে আশঙ্কা ছিল, তা আর থাকছে না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই কেন্দ্র আশা করছে ‘মহারাজা’ বিক্রির ক্ষেত্রে তারা ভালো দর পাবে।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.