‘উত্তম-সুচিত্রা জুটির মতোই মায়াজাল বুনেছিলেন হেমন্ত-সন্ধ্যা’, কলম ধরলেন রূপঙ্কর

0 12


হাইলাইটস

  • গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় আমার কাছে একজন লিভিং লেজেন্ড।
  • ছোটবেলা থেকে ওঁর গান শুনে বড় হয়েছি।
  • ওঁর অসংখ্য গান এখনও মুখস্থ গাইতে পারি।

রূপঙ্কর বাগচি

গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় আমার কাছে একজন লিভিং লেজেন্ড। ছোটবেলা থেকে ওঁর গান শুনে বড় হয়েছি। ওঁর অসংখ্য গান এখনও মুখস্থ গাইতে পারি। ছয় কিংবা সাতের দশকে সুচিত্রা সেন এবং উত্তম কুমার জুটির যে মায়াজাল তৈরি হয়েছিল, ওই একই মায়াজাল কিন্তু সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছিল। সেই মায়াজাল থেকে আমাদের মতো অনেক বাঙালি আজও বেরিয়ে আসতে পারেননি।

পরবর্তীতে ব্যক্তিগতভাবে সন্ধ্যাদি’র সঙ্গে আলাপ হয়েছে। বিভিন্ন শো করার সময় পরিচয় হয়েছিল। ভীষণ স্নেহপ্রবণ একজন মহিলা উনি। একটি বড় ঘটনা আজ বলতে চাই। এই লকডাউনের সময় অর্থাৎ ২০২০ সালে উনি দু’ বার ফোন করে আমার খবর নিয়েছেন। একবার নয়, বরং দু’ বার। খবরাখবর নেওয়ার পাশাপাশি আমাকে বারবার সাবধান করেছেন।আমি যেন না বেরোই সে কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। অকারণে বাইরে বেরোনোর কোনও দরকার নেই, সে কথা বলেছেন। আমি সঠিকভাবে মাস্ক পরছি কিনা, সবসময় স্যানিটাইজার ব্যবহার করছি কিনা, সেসব জিজ্ঞাসা করেছেন। ওঁর কী প্রয়োজন ছিল বলুন? তবুও উনি সেটা করেছেন। শুধু আমায় নয়। আমাদের মতো একাধিক নতুন প্রজন্মের শিল্পীর খোঁজ উনি নিয়েছেন। তাঁরা ভালো আছেন কিনা জানতে চেয়েছেন। কুশল বিনিময় করেছেন। আমার মতে এটা একজন মায়ের পক্ষেই সম্ভব।

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় তো আমাদের মা-ই। উনি সংগীতের মা হওয়ার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির মা। আর সেই কারণেই হয়তো উনি গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে মাতৃসুলভ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে পারেন। উনি এখন আদর্শ সিনিয়রও বটে। যে সিনিয়র সকলকে আগলে রাখতে পারেন। অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকতে পারেন সকলের। সিনিয়র আর্টিস্ট বলতে ছোটবেলা থেকে যেমনটা শুনে এসেছি, উনি তাঁরই প্রতিচ্ছবি আর কী!

জন্মদিনে লতা মঙ্গেশকরকে বিশেষ উপহার দিতে প্রস্তুত গুলজার ও বিশাল
আরও একটি ঘটনা মনে পড়ে, একবার রাজ্য সরকারের এক অনুষ্ঠানে ওঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম। ওঁকে একটি গান গাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছিল। উনি সঙ্গে সঙ্গে মাইক হতে নিয়ে গাইতে আরম্ভ করলেন। আমরা শুনতে পেলাম, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ, ঝিকিমিকি তারা, এই মাধবী রাত, আসেনি তো বুঝি আর জীবনে আমার…’। ওঁর পাশের চেয়ারে বসে যখন আমি ওঁর গলায় ওই গানটি শুনছি, তখন একটা কথাই মনে হচ্ছিল যে ওঁর আসলে কোনও দৈব কণ্ঠস্বর। শুধু আমি কেন, আমাদের সকলেরই সে কথা মনে হচ্ছিল। এত সুন্দর কণ্ঠ কোনও সাধারণ মানুষের হতে পারে না।

উনি এরকমই ভালো থাকুন। অসামান্যা থাকুন। ওঁর জন্মদিনে আমার উইশ যে আরও বহু বছর উনি আমাদের সঙ্গে এভাবেই গান গাইতে থাকুন। এখনও উনি নানা অনুষ্ঠানে গান করেন, আমি শুনে মুগ্ধ হয়ে যাই। আমার মনে হয়, এই বয়সেও উনি অনেক শিল্পীর থেকে বেটার গান করেন। আরও অনেক গান শোনার অপেক্ষায় রইলাম। ওঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি। উনি সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

নিশ্চিন্দিপুর থেকে কাশী ছুঁয়ে লন্ডনের রাজপথে অপু, গন্তব্য বার্লিন
(এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণ ভাবে লেখকের ব্যক্তিগত। এই সময় ডিজিটাল কোনও ভাবেই লেখার দায়ভার বহন করে না।)



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.