‘শতাব্দী সফল পলিটিশিয়ান, আর পালানোর কথা বলবে না’, কলম ধরলেন চিরঞ্জিৎ

0 7


হাইলাইটস

  • শতাব্দীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো।
  • ওকে প্রথম দেখেছিলাম সম্ভবত সুখেন দাসের একটি ছবি চলাকালীন।
  • তবে শতাব্দী রাজনীতিকে যতটা নিজের করে নিল, আমি ততটা পারিনি।

চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী

শতাব্দীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। ওর সঙ্গে ছবি করার মুহূর্তগুলোয় আমি খুব এনজয় করেছি। ওকে প্রথম দেখেছিলাম সম্ভবত সুখেন দাসের একটি ছবি চলাকালীন। তখন ও খুব ছোট। ছবিতে আসেনি। জাস্ট কাজ শুরু করবে এমন একটা সময়। ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে ছবির শুটিং করছিলাম। যেখানে ছবি করছি, তার উলটোদিকের ঘরের বেঞ্চে ছোট একটি মেয়েকে বসে থাকতে দেখেছিলাম। শাড়ি পরে বসে ছিল সে। ওই সময় ওকে খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। এত লম্বা নাক দেখে আমার মনে হয়েছিল খুব নাম করবে মেয়েটি। প্রেডিকশনও করেছিলাম। তারপরে তো আলটিমেটলি সেটাই হল। ও ছবিতে এল। দু’-চারটে ছবি করতে করতেই বড় হয়ে গেল। তারপরে আমার সঙ্গে ছবি করল। আমার অনেক ছবিতে ওকে নিয়েছি। ‘মর্যাদা’য় ছিল। ‘সংসার সংগ্রাম’ করেছিল। বেশিরভাগ সময়েই ওকে ছবিতে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের জুটিটাও খুব সাকসেসফুল ছিল। অনেকগুলো ছবি করেছি একসঙ্গে। সবকটি ছবির অভিজ্ঞতাই ভালো।

ও আমার খুব ভালো বন্ধুও বটে। বহু ছবি, বহু অভিজ্ঞতা। তবে এতগুলো দিন কেটে গিয়েছে। পুঙ্খাণুপুঙ্খভাবে সব মুহূর্ত হয়তো মনে নেই। কিন্তু, সবই যে ভালো মুহূর্ত সেটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। মজাদার অনেক মুহূর্ত কাটিয়েছি। ‘কন্যাদান’ বলে একটি ছবি ছিল। যেখানে শতাব্দী কালো মেয়ে হয়েছিল। সেটাও খুব ভালো ছবি ছিল। ‘শ্রীমতি ভয়ংকরী’ তো ভীষণই মজার ছবি। হিলারিয়াস! তবে ওর সঙ্গে ওই ধরনেরই আরও একটি হিলারিয়াস কমেডি ছবি রয়েছে। খুব নামকরা ছবি, ‘পেন্নাম কলকাতা’। তাতেও ওকে বলেছিলাম, ‘তুমি কর রোলটা’। গ্রাম্য মেয়ের চরিত্র ছিল। সি ইজ ভেরি গুড! দারুণ অভিনয় করে। ব্যক্তিগতভাবে খুবই ভালো মানুষ।

আমি কোনওদিনই রাজনীতিক হতে চাইনি আর হইনি। বিধায়ক হিসেবে শুধু নিজের কর্তব্যটুকু করি। তবে শতাব্দী কিন্তু, পলিটিশিয়ান হয়ে গিয়েছে।

চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী

ওর সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। অনেক ঘটনা ঘটেছে। একটা মজার ঘটনা মনে পড়ছে। কখনও খুব রোদে কোনও আউটডোর শ্যুটিং থাকলে, যখন আমরা দাঁড়িয়ে থাকতাম বা হেঁটে স্পটের দিকে যেতাম তখন ও আমার একটা দিক বেছে নিয়ে সেদিকে চলে যেত। আমার হাতটা ধরে কিছুটা কাছে এসে আস্তে আস্তে হাঁটত। একবার ওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘কী ব্যাপার তুমি আমার ডানদিকে ছিলে, বাঁ দিকে চলে এলে কেন?’ তখন জানা গেল আসল ব্যাপার। কাঁচুমাচু মুখে বলল, ‘তুমি তো অনেক লম্বা, তোমার ছায়ায় আমি স্পট অবধি যাব।’ এটা ভীষণ মজার একটা ইনসিডেন্ট।

Chiranjeet Chakraborty Satabdi Roy

শ্যুটিংয়ের ফাঁকে শতাব্দী-চিরঞ্জিৎ (ছবি সৌজন্য-ফেসবুক)

ওর হাসি বিখ্যাত। এছাড়াও ওর থেকে কমেডি লাইন বের করতাম আমরা। মানে কিছু মজার লাইন ছিল। কাউকে নকল করে হয়ত মজা করা হতো। সামনের মানুষটির নেচার বুঝে আমাদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া হয়ে যেত। আলাদা একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল। সেই লোকটির একটা নাম দিতাম আমরা। পরে তা নিয়ে মজা হত। সেই লোকটি বুঝতে পারত না। অথচ আমরা তাঁকে নিয়েই কথা বলতাম। এরকম সব মজার স্মৃতি রয়েছে আর কী!

‘উত্তম-সুচিত্রা জুটির মতোই মায়াজাল বুনেছিলেন হেমন্ত-সন্ধ্যা’, কলম ধরলেন রূপঙ্কর
রাজনীতির মাঠে আমাদের যোগাযোগ খুব বেশি নেই। যেহেতু ও সাংসদ হয়ে গেল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বিধায়ক হিসেবে নিয়ে এলেন, সেই কারণে একসঙ্গে সেভাবে কাজ করা হয়নি। বিধায়ক হিসেবে আমার ১০ বছর হয়ে গিয়েছে। ১৫ বছর চলছে। উনি ছাড়ছেনও না। তবে শতাব্দী রাজনীতিকে যতটা নিজের করে নিল, আমি ততটা পারিনি। প্রথমে আমাকে বলত, ‘এখানে বেশিদিন থাকতে পারব না’। আমি যখন জিতলাম, ‘আমাকেও বলেছিল যে এখানে থাকতেই পারবে না তুমি।’ তখন ওর সবে পাঁচ বছর হবে। পরে তো দেখলাম ও রাজনীতিটা বেশ ভালো বুঝে গেল। গুছিয়ে নিল সবটা। আমার মতে, একজন শিল্পী থেকে রাজনীতিক হওয়ার ক্ষেত্রে শতাব্দীর মতো আর কেউ নেই। আমি কোনওদিনই রাজনীতিক হতে চাইনি আর হইনি। বিধায়ক হিসেবে শুধু নিজের কর্তব্যটুকু করি। তবে শতাব্দী কিন্তু, পলিটিশিয়ান হয়ে গিয়েছে। এটাও খুব ইন্টারেস্টিং বিষয়। আমরা অর্থাৎ যেসব শিল্পীরা এই মুহূর্তে পলিটিক্সে রয়েছি তাদের মধ্যে শতাব্দীই একমাত্র সবটা বুঝে গুছিয়ে নিতে পেরেছে। দেবশ্রী এসেছিল। কিন্তু, চলে গিয়েছে। নয়নাও (বন্দ্যোপাধ্যায়) সেভাবে পলিটিশিয়ান নয়। কিন্তু, শতাব্দী সফল পলিটিশিয়ান। এখন হয়ত আর বলবে না, ‘সব ছেড়ে পালাই’।

জোর তরজা! প্রযোজক দেবকে একহাত নিলেন পরিচালক অনিকেত
(এই প্রবন্ধে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণ ভাবে লেখকের ব্যক্তিগত। এই সময় ডিজিটাল কোনও ভাবেই লেখার দায়ভার বহন করে না।)



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.