মাদককাণ্ডে আরিয়ানের গ্রেফতারি BJP-র ‘সাজানো ঘটনা’, দাবি মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীর 

0 10


শনিবার রাতে গোয়াগামী এক প্রমোদতরী থেকে কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে আটক হন শাহরুখ খান পুত্র আরিয়ান খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরবাজ মার্চেন্ট। এই ঘটনা নিয়ে গত কয়েকদিনে উত্তাল গোটা দেশ। বুধবার ফের নয়া মোড় নিল এই হাইপ্রোফাইল মামলা। আরিয়ানের গ্রেফতারি নিয়ে এবার রাজনৈতিক চাপানউতোর মহারাষ্ট্রে। শনিবার গভীর রাতে আরিয়ান ও আরবাজকে এসকর্ট করে এনসিবির ব্যালাড এস্টেট-এর (মুম্বইয়ের কার্যলয়) অফিসে নিয়ে আসা দুই ব্যক্তির পরিচয় ফাঁস হতেই চাঞ্চল্য। তাঁরা দুজন এনসিবির আধিকারিক নন, বরং একজন বিজেপি ঘনিষ্ঠ মণীশ ভানুশালি, অপরজন কেপি গোসাই।

শরদ পাওয়ারের দল তথা মহারাষ্ট্রে উদ্ধব সরকারের সহযোগী ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র নবাব মালিক বুধবার বোমা ফাটালেন। তাঁর দাবি, বিজেপি এবং এনসিবির যোগসাজশের জেরেই গ্রেফতার হয়েছেন শাহরুখ পুত্র। মহারাষ্ট্র সরকার, বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই চক্রান্ত করা হয়েছে। যদিও নবাব মালিকের এই অভিযোগ নস্যাত্ করেছে এনসিবি এবং বিজেপি। 




আরিয়ান-আরবাজকে ওই রাতে এনসিবির অফিসে যে দুজন ধরে এনেছিল তাঁদের মধ্যে একজন বিজেপি সমর্থক মণীশ ভানুশালি, অপরজন কেপি গোসাই। গোসাই নিজেকে ব্যক্তিগত ডিটক্টিভ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ভিডিয়ো ক্লিপিংও তুলে ধরেন নবাব মালিক, যেখানে দেখা যাচ্ছে কেপি গোসাই আরিয়ান খানকে অফিসে ঢোকাচ্ছেন, অন্যদিকে মণীশ ভানুশালি আরিয়ানের বন্ধুকে এনসিবির অফিসে নিয়ে যাচ্ছেন। 

দুইজন সাধারণ নাগরিক, এমন হাইপ্রোফাইল রেইডের পর দুজন প্রধান অভিযুক্তকে কীভাবে ধরে আনছে, প্রশ্ন তোলেন উদ্ধব সরকারের সংখ্যা লঘু উন্নয়ন মন্ত্রী। মালিক আরও যোগ করেন, ভানুশালির ফেসবুকের দেওয়ালে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে তিনি বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা-সহ সকল সিনিয়র নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি জ্বলজ্বল করছে ফেসবুকে। তাঁর অভিযোগ বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই পুরো বিষয়টা শুরু হয়েছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে। ড্রাগসের জন্য সুশান্তকে হত্যা করা হয়েছে, এমন সব সাজানো গল্প ফাঁদা হয়েছে। তারপর থেকে চর্চায় এনসিবির জোনাল অফিস’। 

যদিও মহা বিকাশ আঘারি জোট সরকারের মন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এনসিবি। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ে জানান- এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। সাংবাদিক বৈঠকে এনসিবির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেশ্বর সিং জানান- সবরকম আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ওই অপারেশন চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনার ৯ জন সাক্ষী রয়েছেন, সেই তালিকাতে নাম রয়েছে মনীশ ভানুশালি ও কিরন গোসাই-এর।

 কেপি গোসাই-এর সেলফি আরিয়ান খানের সঙ্গে, যা ঘিরেও কম বিতর্ক হয়নি
 কেপি গোসাই-এর সেলফি আরিয়ান খানের সঙ্গে, যা ঘিরেও কম বিতর্ক হয়নি

অন্যদিকে বিজেপি এই মামলায় পালটা অভিযোগের আঙুল তুলল এনসিপি-র দিকেই। বিজেপির মুখপাত্র কেশব উপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘এনসিপি আগে বলুক তাঁরা কি ড্রাগ মাফিয়াদের সমর্থক বা তাদের বিরুদ্ধে কোনও অ্যাকশন নেওয়া হলে ওদের সমস্যা রয়েছে?’ সঙ্গে তিনি এও দাবি করেন বিজেপির প্রবীন নেতাদের সঙ্গে ছবি থাকলেই কেউ বিজেপি নেতা হয় না।

ভানুশালি নিজে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি প্রকৃতপক্ষেই বিজেপি সমর্থক, তবে দলে তাঁর কোনও পদ নেই। তিনি সাক্ষী হিসাবেই ওইদিন এনসিবি অফিসে এসেছিলেন। তাঁকে নির্দিষ্ট কিছু নথি-তে স্বাক্ষর করতে হয়েছিল। 





Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.