সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, মহালয়ার সকাল থাকুক রেডিয়োতেই

0 10


হাইলাইটস

  • ইউটিউবার ছেলেটার নাম যে কিরণ দত্ত, তা চোখ-কান খোলা বাঙালিরা জানেন।
  • একটা সময় বছরে একবারই রেডিয়োতে শুনতে পাওয়া যেত মা দুগ্গার ওয়েলকাম অনুষ্ঠান।
  • এখন বছরের যে কোনও মাসে, যে কোনও সময়, যে কেউ চালিয়ে দিতে পারে অনুষ্ঠানটি।

ভাস্বতী ঘোষ

কুমোরটুলির রেডিয়োর দোকান। অমিত রঞ্জন কর্মকারের এ দোকান কে না চেনে! মহালয়ার আগের দিন এক বাঙালি দোকানে দাঁড়িয়ে ভাঙা বাংলায় বললেন, ‘রেডিয়োটা এমন করে দিন, যাতে চালু করলেই মহালয়াটা শোনা যায়’। এই হল বাঙালি। মানে ‘বং’। এ দিকে তারা এখনও বুঝতে পারলো না মহিষাসুরমর্দ্দিনী শোনে নাকি ‘মহালয়া’ শোনে!

এমন বাঙালিদের নিয়ে, সে তারকা হোক বা আপনার-আমার মতো সাধারণ কেউ, বেজায় খিল্লি করেন ‘বং গাই’। ইউটিউবার ছেলেটার নাম যে কিরণ দত্ত, তা চোখ-কান খোলা বাঙালিরা জানেন। একটা সময় বছরে একবারই রেডিয়োতে শুনতে পাওয়া যেত মা দুগ্গার ওয়েলকাম অনুষ্ঠান। এখন বছরের যে কোনও মাসে, যে কোনও সময়, যে কেউ চালিয়ে দিতে পারে অনুষ্ঠানটি। সোশ্যাল মিডিয়াতেই।

কিরণ কোনটা বাছবেন? বং গাইয়ের উত্তর, ‘মহালয়ার ভোরে রেডিয়োতে ওই অনুষ্ঠান শোনার মজাই আলাদা। এখনও আমি সেটাই বাছবো। ধুবুলিয়াতে ছোটবেলায় এই অনুষ্ঠান শোনার জন্য মা তুলে দিত। আমি প্রতিবার দশ মিনিট শুনে ঘুমিয়ে পড়তাম। পুরোটা ভালো করে জানি না। আসলে অধিকাংশ বাঙালি জানেন না। উত্তেজনার কারণ হল, অনুষ্ঠানের সুরটা কানে এলে মনে হয়, পুজো চলে এলো’। দুর্গাপুজোর মণ্ডপে অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে গিয়ে প্রেম হয়, এটাও কি মিথ? মুচকি হাসেন কিরণ। বক্তব্য, ‘ছবিতে-বিজ্ঞাপনে এ সব দেখে চিরকাল মনে হতো অষ্টমীতে আমার প্রেম হবে। এক বান্ধবীর তুতো বোনের উপর বিরাট ব্যথা হয়েছিল। সে পুজোতে এলে অনেক ঘুরপাক খেতাম। কোনও লাভ হয়নি। বলা হয় অষ্টমীতে প্রেম হবে, তবে সে প্রেম যে কার হয়েছে, কেউ জানে না!’

ইউটিউবার কিরণকে নিয়ে পাভেলের ‘কলকাতা চলন্তিকা’
করোনার চোটে মণ্ডপে প্রবেশ নিষেধ। এখন ঠাকুর দেখাও সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোনও ইউটিউব চ্যানেলও খুলে যেতে পারে এ নিয়ে। এটাই কি ট্রেন্ড হয়ে যাবে? কিরণের উপলব্ধি, ‘করোনার দু’ বছর এমন অবস্থা। না হলে মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখবে না, তা হয় না’। মা দুর্গা যখন আসেন, তখন তাঁর কাছে গিয়ে সন্তানের ভালো চাননি, এমন বাবা-মা বিরল। কিন্তু স্মার্ট ফোন হাতে যে প্রজন্মের দুধের দাঁত পড়ছে, তারা কি ভালো থাকবে?

সোশ্যাল মিডিয়া গুলে খাওয়া আর ভিডিয়ো গেমসের নেশায় মগ্ন কিরণ বলেন, ‘বাচ্চাদের ফোনের থেকে দূরে রাখাই ভালো। আমাকে যে এত মানুষ চেনেন, এখন আর মেট্রো রেলে চড়তেই পারি না, ভিড় হয়ে যায়, সবই তো সোশ্যাল মিডিয়াতে কনটেন্ট দেখে। কিন্তু আমারই মনে হয়, এটা আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও নেগেটিভ মন্তব্য করতে আমরা এক মিনিট ভাবি না। সেটা কাউকে আঘাত করছে কিনা, তাও ভাবি না। মন দিয়ে ভেবে দেখেছি, একজন নায়ক মার খাচ্ছেন দেখে অনেকেই কিন্তু খুশি হন। সোশ্যাল মিডিয়াতে যে কারণে তারকাদের সমালোচনা করতে কেউ পিছপা নন। এ সব দেখলে আমার মনে পড়ে, শাহরুখ খান দশ বছর আগেই একটা সাক্ষাৎকারে বলে দিয়েছিলেন, আর কোনও সুপারস্টার হবে না’!

‘মায়েদের একটা গন্ধ থাকে’
কিরণের স্বীকারোক্তি, তিনি নিজে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কিছুটা বোর হয়ে গিয়েছেন। চেষ্টা করেন সেখানে কম সময় কাটানোর। ধুবুলিয়ায় শান্ত একটা দিন কাটাতে চান ২৬ বছর বয়সেই। বাঁচতে চান নস্টালজিয়া আঁকড়ে। যেমন আসল ‘বং’রা এখনও রেডিয়ো আঁকড়ে ঘুম থেকে ওঠেন মহালয়ার সকালে।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.