Buddhadeb Dasgupta-র স্মরণে Chandan Roy Sanyal এবং Pankaj Tripathi


চন্দন রায় সান্যাল (Chandan Roy Sanyal)

আমি কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। প্রচণ্ড মন খারাপ। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ছবি দেখে বড় হয়েছি। তখন দিল্লিতে থাকতাম। ছোটবেলায় দূরদর্শনে বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালের ছবি দেখানো হত। তখন ‘বাঘ বাহাদুর’, ‘তাহাদের কথা’, ‘উত্তরা’ দেখেছি। অভিনেতা হওয়ার আগে থেকেই আমি পরিচালকের ভক্ত। একজন বাঙালির কাছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত সিনেমার ঈশ্বর। তাঁর তৈরি করা ছবিগুলোই সে কথা বলে দেয়। ওঁর তুলনা উনিই। আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি অভিনয় জীবনে ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবো। এটা আমার সৌভাগ্য আবার দুর্ভাগ্যও যে ওঁর শেষ ছবিতে আমি অভিনয় করেছি। আরও একটা ছবিতে ওঁর সঙ্গে কাজ করার কথা ছিল।

প্রথমে ওঁর কাছ থেকে ‘টোপ’ ছবিতে অভিনয় করার জন্য ডাক পাই। আমি তখন ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে। উনি একটাই প্রশ্ন করেছিলেন, ‘হনুমানের সঙ্গে অভিনয় করতে পারবে?’ প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়ে যাই। তারপর শুটিং শুরু হওয়ার প্রথম দু’সপ্তাহ গাছের উপর হনুমান নিয়ে অভিনয় করতে হয়েছে। উনি কবি। তাই ছবির দৃশ্যেও সেটা প্রতিফলিত হতো। পরিচালক হিসেবে খুব কড়া ছিলেন। নিখুঁত না হওয়া পর্যন্ত মন ভরতো না ওঁর। ‘উড়োজাহাজ’ করার সময় দেড় মাস ওঁর সঙ্গে ছিলাম। উনি হুইল চেয়ারে বসে পরিচালনা করেছিলেন। কিডনির সমস্যা শুরু হয়েছিল। ডায়ালিসিস চলছিল। তাও প্রতিদিন শুটিং-এ উপস্থিত থাকতেন। ওঁর মনের জোর দেখার মতো। ‘উড়োজাহাজ’-এ অভিনয় করার পর বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বলেছিলেন, ‘চন্দন এই ছবিতে তুমি সব ছাপিয়ে গিয়েছো। তোমার পুরস্কার পাওয়া উচিত’। এই ধরনের কথা কিন্তু ওঁর মুখ থেকে সহসা বোরোয় না। আমার কাছে এটাই শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

বিদায় তো জানাতেই হবে। তবে শিল্পী হিসেবে উনি আমাকে তৈরি করেছেন। যা উত্তরণ ঘটিয়েছে, পরিবর্তন ঘটিয়েছে আমার। বুদ্ধদা আপনাকে সব সময় মনে করব। শেষ চার বছর আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

অনুলিখন দেবলীনা ঘোষ

পঙ্কজ ত্রিপাঠী (Pankaj Tripathi)

বুদ্ধদার সঙ্গে আমার খুব অদ্ভুত আর ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। ‘আনওয়ার কা আজব কিসসা’-র সময় একদিন ফোন এল, যে বুদ্ধবাবু তোমার সঙ্গে কথা বলবেন। উনি কথা বললেন। পরের সপ্তাহে আমি কলকাতায় ছিলাম। সেখান থেকে শিমুলতলা গেলাম। ক্যামিও ছিল। কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল। আমার কাছে বড় পাওনা যেটা ছিল, এর জন্য সাত দিন শিমুলতলাতে বুদ্ধদার সঙ্গে থাকতে পারলাম আমি। ওঁর থেকে অনেক কিছু শিখতে পারলাম। শিল্প, লেখা, সিনেমার শিক্ষক ছিলেন। লম্বা-লম্বা শট নিতেন। আমার কথা মানতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওর সঙ্গে সিনেমা-জীবন-দর্শন নিয়ে কথা বলতাম। আসলে আমার শিমুলতলা যাওয়ার খুব শখ ছিল। যখনই ট্রেনে চড়ে শিমুলতলার উপর দিয়ে যেতাম, মনে হতো কবে এখানে আসবো। কীরকম ভাগ্যবান আমি, এই ছবিটায় আমার চরিত্রটা পালিয়ে শিমুলতলায় চলে আসে। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কেন এই চরিত্রটা পালিয়ে এখানে এসেছে? উনি বলেছিলেন, ‘তুমি বলো। তুমি অভিনেতা। তোমার কাজ হলো এটা ভাবা’। সেই আলোচনায় একটা দারুণ উত্তর বেরিয়ে এসেছিল। উনি অদ্ভুত ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন। অদ্ভুত সুন্দর গল্প বলতেন। বড়পর্দায় ছবি আঁকতেন। আবার একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দাদার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমি ছুটে ওঁর ঘরে গিয়ে গল্প করতে শুরু করলাম। ওঁর কথা আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম। আজ ভারতীয় ছবির খুব বড় ক্ষতি হলো। আমি ওঁকে শ্রদ্ধা জানাই। বুদ্ধদার ছবি থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে ওঁর ছবি পড়ার বিষয় হবে।

অনুলিখন ভাস্বতী ঘোষ



Continue Reading

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.